ঢাকা, সোমবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
আমতলীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা
মিরসরাইয়ে স্বপ্নের খৈয়াছড়া’র কার্যকরী পরিষদ গঠন, সভাপতি জাহেদ সম্পাদক নুর আহমেদ
কুষ্টিয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ছবির শেখকে গণপিটুনি
দেহ ব্যবসায়ীদের আস্তানা গুড়িয়ে ও পুড়িয়ে দিলেন এলাকাবাসী
আত্রাইয়ের আকাশ থেকে পড়ল বিরল আকৃতি’র শীলা
ফেনী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অর্ধদিনব্যাপী সাড়াশি অভিযান
নওগাঁ-ঢাকা বাস কাউন্টারে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিমের অভিযান
নবীনগরের সাংবাদিক গোলাম মোস্তফার ইন্তেকাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ১১ সদস্যের কমিটি গঠন
বোয়ালমারীতে গৃহবধূর আত্মহত্যা,নিহতের পরিবারের দাবি খুন
বিস্ফোরক আইনের মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ গ্রেফতার
রাজবাড়ীর সাবেক এমপি কেরামত কাজী গ্রেফতার
পল্লবী থানার বিশেষ অভিযানে ৩০ মামলার আসামিসহ ১২জন গ্রেফতার
গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে পিআরপি’র সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক
ঘোড়াঘাটে আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থার র্নিবাচনে সভাপতি লুইস :সম্পাদক মাইকেল

শিশু অপহরণ:১০ লাখ মুক্তিপণ দাবীর ৪ দিন পর কলাবাগানে মিলল লাশ,গ্রেফতার ২

গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে অপহরণ করা হয় সাড়ে ৬ বছরের মাদরাসাছাত্র তামিমকে। দাবি করা হয় ১০ লাখ টাকা মুক্তিপন। নিহতের বাবা মুক্তিপণের টাকা নিয়ে ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জায়গায় যায় গেলেও ফিরে পাননি সন্তানকে। অবশেষে নিখোঁজের ৪ দিন পর বাড়ির পাশের কলাবাগান থেকে উদ্ধার হয় তার লাশ।

এ ঘটনায় মামলার মূলহোতা ও সহযোগীকে যৌথ অভিযানে ময়মনসিংহ হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১ ও র‌্যাব-১৪)

শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোসতাক আহমেদ।

গ্রেফতাররা হলেন-ময়মনসিংহের মুক্তগাছা থানার পাউরিতলা এলাকার মৃত মজনু মিয়ার ছেলে মো.হাসান মিয়া (২০) ও একই থানার কুশকান্দা এলাকার ইস্কান্দার মিয়ার ছেলে মো.সাগর মিয়া (২২)।

মোসতাক আহমেদ বলেন,গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অপহরণের পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী এবং ৪ দিন পরে বাড়ির পাশে কলাবাগান থেকে সাড়ে ৬ বছরের শিশু তামিমের লাশ উদ্ধার হওয়া হত্যা মামলার মূলহোতা ও সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

ভিকটিম সানজিদুল ইসলাম তামিম কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ আইনুদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় পড়াশুনা করতো। তামিম তার বাবার সাথে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। তার বাবা প্লাস্টিকের ববিন কাটার ব্যবসা করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় গত ৭ জুলাই সন্ধ্যায় ভিকটিম সানজিদুল ইসলাম তামিম বাসায় ফিরে না আসায়,ভিকটিমের পরিবারের লোকজন আশেপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে কোনাবাড়ী থানায় ১ টি নিখোঁজ জিডি করেন। নিখোঁজের পরদিন ৮ জুলাই ভিকটিমের পিতার মোবাইলে অজ্ঞাতনামা একজন ফোন করে জানায় যে,ভিকটিম তামিম তাদের হেফাজতে আছে এবং তাদেরকে ১০ লাখ টাকা দিলে তারা ভিকটিমকে ছেড়ে দিবে। এ সময় তার পরিবারের লোকজন অপহরণকারীদেরকে টাকা দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ বাইপাস এলাকায় গেলে অপহরণকারীরা তাদের সাথে দেখা করে না।

পরে ১০ জুলাই কোনাবাড়ীর আমবাগ মধ্যপাড়া এলাকায় কলাবাগানের ভিতর একটি শিশুর পঁচা গন্ধযুক্ত মৃতদেহ পড়ে আছে দেখে আশেপাশের লোকজন থানায় খবর দেয় এবং ঘটনাস্থলে ভিকটিমের পিতা ও কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ভিকটিমের মৃতদেহ সনাক্ত করে।

তিনি বলেন,এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুলাই দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত র‌্যাব-১ ও র‌্যাব-১৪ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার কদুরবাড়ী বাজার এলাকা হতে হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি মো.হাসান মিয়া (২০),কে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্যমতে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানাধীন কুশকান্দা এলাকা হতে হত্যাকান্ডে জড়িত ভিকটিমের চাচাতো ভাই মো. সাগর মিয়া (২২) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা সানজিদুল ইসলাম তামিমকে হত্যার কথা স্বীকার করে বলেও জানান তিনি।
আসামিদের বরাত দিয়ে মোসতাক আহমেদ বলেন, আসামি দুইজন ভিকটিমের পিতা মো.নাজমুল হোসেন (৩০) এর প্লাস্টিকের ববিন কাটার গোডাউনে চাকুরী করতো। তারা ঋণগ্রস্থ ছিল বিধায় মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ভিকটিমকে অপহরণের পরিকল্পনা করে।

সেই পরিকল্পনার জের ধরে ঘটনার দিন ভিকটিমকে তারই বাবার গোডাউনের সামনে থেকে ফুসলিয়ে হাতি দেখানোর কথা বলে আসামিদের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। পরে তাকে বাথরুমের ভিতর দড়ি দিয়ে হাত ও পা বেধে মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে আটক করে রাখে এবং মুক্তিপণের বিষয় নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে সলাপরামর্শ হয়। একপর্যায়ে ভিকটিম তাদের পূর্ব পরিচিত হওয়ায় মুক্তিপণ পেলেও তার বাবাকে ঘটনা জানিয়ে দেয়ার ভয় থেকেই একই দিন বাথরুমের ভিতর আসামি ভিকটিমের চাচাতো ভাই ভিকটিমের পা চেপে ধরে এবং অপর আসামি মো. হাসান মিয়া গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। তারপর কলাবাগানের ভিতরে অত্যন্ত সু-কৌশলে রাতের আধারে লাশ গুম করে এবং পরদিন ভিকটিমের বাবার কাছে আসামি ফোন করে জানায় ভিকটিম তাদের হেফাজতে আছে। তাদেরকে ১০ লাখ টাকা নগদ দিলে তারা ভিকটিমের পিতার কাছে ভিকটিমকে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের লোকজন টাকা দেওয়ার জন্য পুলিশের সহায়তায় আসামিদের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী ময়মনসিংহ বাইপাস এলাকায় যায়। কিন্ত আসামিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সাথে সাক্ষাৎ না করে সুকৌশলে পালিয়ে যায় বলে স্বীকার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়কে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাজীপুর কোনাবাড়ী থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ