
শেখ খায়রুল ইসলাম কপিলমুনি খুলনা প্রতিনিধি : বর্ষার শুরুতে শাপলার জন্ম হলেও হেমন্তের শিশির ভেজা রোদমাখা সকালের জলাশয়ে চোখ পড়লে রং-বেরঙের শাপলার বাহারী রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। মনে হয় কোনো এক সাজানো ফুল বাগানের মধ্যে শ্রষ্টার শ্রেষ্ট জীব হিসেবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছি। এদৃশ্য চোখে না দেখলে বোঝার উপায় নেই।শাপলার সৌন্দর্য দেখতে ছুঁটে আসেন প্রকৃতি প্রেমীরা।অনেকে আবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার লোকজন শাপলা তুলে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেন।তবে বর্তমান সভ্যতায় বাড়তি জনগণের চাপের কারণে আবাদি জমি ভরাট করে বাড়ি,পুকুর,মাছের ঘের বানানোর ফলে বিলের পরিমাণ যেমন কমছে,তেমনি শাপলা জন্মানোর জায়গাও কমে আসছে।পাইকগাছাতে লবণাক্ত প্রভাবে বিলুপ্ত প্রায় লাল,সাদা,বেগুনী রঙের শাপলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ।তাছাড়া জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষাবাদের কারনে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন,খাল-বিল ও জলাশয় ভরাটের কারনে জেলার বিলাঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শাপলা।এখন খাল-বিল ও জলাশয় থেকে প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা। অনেকে সৌন্দয্যের জন্য পুকুরেও চাষ করত শাপলা। তবে ওই সকল পুকুরে কার্প জাতীয় মাছ যেমন-রোবোকার্প, গ্রাস কার্প মাছ চাষের ফলে শাপলার বংশ বিস্তার সমূলে বিনাশ হয়ে যাচ্ছে।পাইকগাছা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাধারণত শাপলা তিন প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে সাদা,বেগুনী (হুন্দি শাপলা) ও অন্যটি লাল রংয়ের। এর মধ্যে সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ও লাল রঙ্গের শাপলা ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয়। শাপলা খুব পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি। সাধারণ শাক-সবজির চেয়ে এর পুষ্টিগুন অনেক বেশি। শাপলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। শাপলায় ক্যালসিয়ামের পরিমাণ আলুর চেয়ে সাতগুন বেশি। শাপলা চুলকানী ও রক্ত আমাশয়ের জন্য বেশ উপকারী। তাছাড়া ডায়াবেটিস, বুক জ্বালা, লিভার, ইউরিনারী সমস্যার সমাধান সহ নারীদের মাসিক নিয়ন্ত্রনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।প্রতি ১শ’ গ্রাম শাপলার লতায় রয়েছে খনিজ পদার্থ ১.৩ গ্রাম, এ্যাশ ৮.৭ গ্রাম, খাদ্যপ্রাণ ১৪২ কিলো, ক্যালোরি-প্রোটিন ৩.১ গ্রাম, শক্ররা ৩১.৭ গ্রাম, ক্যালশিয়াম ০.৫২ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ০.৩২, ড্রাই মেটার ৮.৪, ক্রুড আমিষ ১৬.৮, ক্রুড ফ্যাট ২.৮ ক্রুড ফাইবার ৬২.৩, নাইট্রোজেন ৩৫.৪, সোডিয়াম ১.১৯, পটাশিয়াম ২.২৩ ভাগ।এ বি ডি পি লতা এম এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরুন কুমার বলেন, ঐতিহাসিক কাল থেকেই শাপলার ফল (ঢ্যাপ) দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খৈ ভাজার রেওয়াজ আছে। যেটি গ্রামগঞ্জে ঢ্যাপের খৈ বলে পরিচিত। মাটির নিচের মূল অংশকে (রাউজোম) আঞ্চলিক ভাষায় শালুক বলে। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বিল-ঝিল- হাওড়-বাঁওড়-পুকুরের পানি যখন কমে যায় তখন শালুক তুলে খাওয়া হত, তা খেতেও বেশ সুস্বাদু এবং আমাশয়ের জন্য এটি খুবই উপকারী সরকারিভাবে উদ্যোগ না নিলে দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত ভূমি ও জলাশয় থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে ঔষধি গুণ সমৃদ্ধ শাপলাসহ অন্যান্য উদ্ভিদ। এ জন্য সকলকে এগিয়ে আশা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।