ঢাকা, রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
ঝালকাঠিতে অস্ত্র মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির ১৪ বছরের কারাদণ্ড
একই রশিতে গাছ থেকে ঝুলন্ত মা-ছেলের লাশ উদ্ধার
সোনারবাংলা ইয়ুথ ক্লাবে’র ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
ঈদে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নওগাঁর শাহাগোলা রেলস্টেশনের ‘মটকা চা’
কুড়িগ্রামে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালিত
নান্দাইলে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ইন্দুরকানীতে ঈদের আনন্দে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
মোটর সাইকেল চাপায় আহত হয়ে সড়কে পড়ে থাকা মানসিক প্রতিবন্ধীর চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে আসলেন সুনামগঞ্জের ডিসি
বিরামপুরে চেকপোস্ট বসিয়ে সেনাবাহিনীর তল্লাশি: জনমনে স্বস্তি
কলমাকান্দায় ৫০ বোতল ভারতীয় মদসহ একজন আটক
আত্রাইয়ে ত্রুীড়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা
তানোরে জমি দখলের চেষ্টা বাধা দেয়ায় মারপিটের অভিযোগ
ঈদের ছুটিতে বেড়াতে এসে বাড়ি ফেরা হলো না দুই শিশুর
সরাইলে ৩ মাদকসেবীকে অর্থ ও কারাদণ্ড প্রদান
বাঙ্গালহালিয়াতে শিব মন্দিরে বাসন্তী মায়ের পূজা মান্ডপ পরিদর্শনে জেলা পরিষদের সদস্য

জাল সার্টিফিকেট তৈরি চক্র:তদন্তের প্রয়োজনে বোর্ডের চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন,জাল সার্টিফিকেট তৈরি চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তদন্তের প্রয়োজনে বাংলাদেশ কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যান আলী আকবর খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এরআগে গতকাল রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে আলী আকবর খানের স্ত্রী শেহেলা পারভীনকে গ্রেফতার করে ডিবির লালবাগ বিভাগ।

রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে অবস্থিত ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন,এই ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকে না কেন আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। আমরা এখন পর্যন্ত কাউকে ছাড় দেইনি। এই চক্রের সঙ্গে যত বড় রাঘববোয়াল জড়িত থাক না কেন তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের তথ্য উৎপত্তে যদি চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতা থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আমরা তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবো। আমরা যেকোনো সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ডাকবো।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান বলেন,ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালাবাগ বিভাগ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জাল সার্টিফিকেট তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১ এপ্রিল রাজধানীর পীরেরবাগ এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের সিস্টেম এনালিস্ট একেএম শামসুজ্জামান ও একই প্রতিষ্ঠানের চারিচ্যুত ও বর্তমানে শামসুজ্জামানের ব্যাক্তিগত বেতনভুক্ত সহকারী ফয়সাল গ্রেফতার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান জাল সার্টিফিকেট, মার্কশিট,রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র,এবং শতশত সার্টিফিকেট মার্কশিট তৈরি করার মত বিশেষ কাগজপত্র, কম্পিউটার,ল্যাপটপ,প্রিন্টার,কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে চুরি করে নেয়া হাজার হাজার অরিজিনাল সার্টিফিকেট এবং মার্কশিটের ব্লাঙ্ক কপি,শতাধিক সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্ট,বায়োডাটা,গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি উদ্ধার করা হয়েছে।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ এপ্রিল কুষ্টিয়ার জেলার সদর থানা এলাকা থেকে গড়াই সার্ভে ইন্সটিটিউটের পরিচালক সানজিদা আক্তার কলিকে গ্রেফতার করে হয়। গ্রেফতার এই তিন জিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

তিনি বলেন,জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কামরাঙ্গীরচর হিলফুল ফুযুল টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে (৪৮) গত ১৮ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ঢাকা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক মো.মাকসুদুর রহমান ওরফে মামুন (৪০) গত ১৯ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া সর্বশেষ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের স্ত্রী মোছা.শেহেলা পারভীন (৫৪) কে গতকাল উত্তরা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

একে এম শাসমুজ্জামান ও তার ব্যাক্তিগত সহযোগী ফয়সাল গত কয়েক বছরে পাঁচ হাজারের অধিক জাল সার্টিফিকেট মার্কশিট বানিয়ে ভুয়া লোকদের কাছে হ্যান্ডওভার করেছে। একই সাথে সরকারি ওয়েবসাইটে, সরকারি পাসওয়ার্ড,অথরাইজেশন ব্যবহার করে ভুয়া লোকদের মধ্যে বিক্রি করা সার্টিফিকেটগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে। ফলে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যেকোনো দেশে বসে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল নাম্বার,রেজিস্ট্রেশন নাম্বার গুলোলে সার্চ করলে তা সঠিক পাওয়া যায়।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন,কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীর তথ্য সংযোজন, বিয়োজন ও পরিবর্তন সংক্রান্ত আবেদন নিবেদনের ফোকাল পারসন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। কোনক্রমে ই সিস্টেম অ্যানালিস্ট বা কম্পিউটার অপারেটররা নয়। সিস্টেম এনালিস্ট বা কম্পিউটার অপারেটরা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রকদের নির্দেশে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখে সংবেদনশীল এই কাজগুলো করার কথা। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন উপজেলা,জেলা এবং বিভাগীয় শহরে অবস্থিত সরকারি বেসরকারি কারিগরি স্কুল ও কলেজ,পলিটেকনিকেল ইনস্টিটিউট,সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিচালক,প্রিন্সিপালগঞ্জ সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, রোল নাম্বার সৃজন,রেজাল্ট পরিবর্তন পরিবর্ধন,নাম ও জন্ম তারিখ সংশোধনের তথ্য হোয়াটসঅ্যাপে টাকার বিনিময়ে আদান-প্রদান করেছে কম্পিউটার অপারেটর ও সিস্টেম এনালিস্টদের সাথে। এ রকম প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিপরায়ণ ২৫/৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে যাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কিছু দুর্নীতিপরায়ণ সিবিএ দালাল কর্মচারী কর্মকর্তা,কম্পিউটার এবং পরিদর্শন শাখার কর্মকর্তা কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে রেজাল্ট পরিবর্তন,নাম ঠিকানা পরিবর্তন, প্রার্থীদের বয়স পরিবর্তন ও সময়ে অবৈধভাবে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার,রোল নাম্বার প্রদান সংক্রান্ত কাজগুলো করার সিন্ডিকেট বানিয়েছে।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ