
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) সেকশন অফিসার নিয়োগ বাতিল চেয়ে উপার্চায ও রেজিস্ট্রারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন শাহানা সুলতানা ও মোসা. হেলেনা বেগম নামের দু’জন ভুক্তভোগী।পটুয়াখালী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলাটি করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী হুমায়ূন কবির বাদশা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমার বাদী (ভুক্তভোগী) আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন এবং আদালত সমন নোটিশ ইস্যু করেছেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায ও রিজেন্ট র্বোডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত, রেজিস্ট্রার (অ. দা.) অধ্যাপক ড..সন্তোষ কুমার বসু, ট্রেজারার অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে,২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর ৩ জনসহ অন্যান্য পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তর। সেকশন অফিসার পদের জন্য মুরাদিয়ার বাসিন্দা শাহানা সুলতানা ও দুমকির বাসিন্দা হেলেনা বেগম (মামলার বাদীদ্বয়) আবেদন করেন। ফলে ২০২৩ সালের ২
নভেম্বর বাদীকে সাক্ষা কারের জন্য ডাকা হলে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সাক্ষা কার দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক-র্কমর্কতা পদে বাছাইয়ের জন্য একাধিক কমিটি গঠন করে। যা বিধিবর্হিভূত বলে বিবরণে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়াও নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ র্বোড কমিটির চেয়ারম্যান উপার্চায হওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান হন ট্রেজারার অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী এবং রেজিস্ট্রার কামরুল ইসলামকে বাদ দিয়ে রেজিস্ট্রার (অ. দা.) অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসুকে সদস্যসচিব এবং অধ্যাপক ড. র্পূণেন্দু বিশ্বাসকে রিজেন্ট র্বোডের সদস্য করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ১, ২, ৪ ও ৭ নভেম্বর নিয়ম বর্হিভূতভাবে দুটি বাছাই র্বোড কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায
অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলে শাওন চন্দ্র সামন্ত তনু, উপ-রেজিস্ট্রার জসিম উদ্দিন বাদলের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা, পবিপ্রবি র্কমর্কতা সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েলের ভাই মো. আরিফুর রহমান পিয়েল, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেকের ভাই মো. হাফিজুর রহমান, দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালামের ছেলে তানভীর হাসান স্বাধীন ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী তাকছিনা নাজনীনকে সুপারিশ করে। গত ২ ডিসেম্বর রিজেন্ট র্বোডের সভায় উপস্থাপনের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় এবং সেকশন অফিসার পদে বিজ্ঞপ্তিতে ৩ জন নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাছাই র্বোড ৬ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। পরে ৩ ডিসেম্বর নিয়োগদের ডাক্তারি পরীক্ষার কথা থাকলেও ওই দিনই তারা যোগদান করেন। বিবরণে আরও বলা হয়, সেকশন অফিসারসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও টাকা লেনদেনের গুঞ্জন রয়েছে। এ প্রক্রিয়ার কারণে মামলার বাদীরা শাহানা সুলতানা ও
মোসা.হেলেনা বেগম উপযুক্ত র্প্রাথী হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছেন। এজাহারে সেকশন অফিসারসহ অন্যান্য পদের নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। মামলার বিষয়ে
জানতে চাইলে পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার (অ. দা.) অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন, জানা নেই, এখনো কোনো কাগজপত্র পাইনি। এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর পবিপ্রবিতে নিয়ম বর্হিভূতভাবে উপার্চাযের ছেলেসহ ৫৮ জনকে নিয়োগের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) তদন্তর্পূবক ব্যবস্থা নেওয়ার র্নিদেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৪ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা (মাউশি) বিভাগের উপসচিব স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।কমিটিতে ইউজিসির সচিব ফেরদৌস জামানকে আহবায়ক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম শেখকে সদস্যসচিব এবং র্অথ ও হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল আলিমকে সদস্য করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি ক্যাম্পাসে সরে জমিনে তদন্ত সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে। মামলা নং ১৬১/০২.০৪.২০২৪