
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্র মোহাম্মদ ফয়জুদ্দিনের মোবাইল ছিনতাই হয়েছিল ২১ জানুয়ারি। মোবাইলটি ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন ফয়জুদ্দিন। কিন্তু উত্তরার ১২ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাইবার ক্রাইম ইউনিট মঙ্গলবার ছিনতাই হওয়া সেই মোবাইলটি উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়েছে ফয়জুদ্দিনকে।
শুধু ফয়জুদ্দিন নয়,গত ২ মাসে উত্তরার ১২ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাইবার ক্রাইম ইউনিট হারিয়ে যাওয়া ১৬২টি মোবাইল উদ্ধার করেছে। যে মোবাইলগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
উত্তরার এপিবিএন সাইবার ক্রাইম ইউনিট কার্যালয়ে মোবাইলগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেন ১২ আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়েনর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আনিছুর রহমান। মোবাইল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১২ আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়েনর সহঅধিনায়ক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, বিকিউএম ১২ আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।
হারানো মোবাইল প্রকৃত মালিকদের হাতে সময়মতো তুলে দিতে পেরে খুশি অতিরিক্ত ডিআইজি আনিছুর রহমান। মোবাইল উদ্ধারের সাফল্যের হারও যে আগের তুলনায় বেড়েছে সেটাই জানালেন এই পুলিশ কর্মকর্তা‘এই মোবাইলের পার্টস খুলে বিক্রয় করা হয় অনেক জায়গায়। এটা যতক্ষণ বন্ধ করতে না পারব ততক্ষণ আমাদের অভিযান প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে। যেভাবে সবার হাতে অল্প সময়ের মধ্যে মোবাইল তুলে দিতে পারলাম সেই প্রক্রিয়া অত সহজ না। প্রচুর ডাটা অ্যানালাসিস করতে হয়। এটার জের ধরে বিভিন্ন জায়গা যেতে হয়। আমাদের প্রচুর কষ্ট করতে হয়। তারপরও আমরা করি কাজটা কারণ আমরা যদি না করি হাল ছেড়ে দিই তাহলে এই যে মোবাইল ছিনতাই হওয়া হারিয়ে যাওয়া চুরি হওয়া এসব জিনিস বাড়বেই। এসব তৎপরতার কারণে তারাও (ছিনতাইকারীরা) আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। আমরা মোবাইল উদ্ধারের কাজ ভালোভাবে করার চেষ্টা করি। এবং আমাদের সাফল্যের হারও বেশি।”
গাজীপুর চৌরাস্তা শালনা থেকে গার্মেন্টস শ্রমিক মোহাম্মদ রমজান আলীর মোবাইল চুরি হয়ে গিয়েছিল। হারানো মোবাইল অবশেষে উদ্ধার করে দেয় পুলিশ। নিজের মোবাইল ফেরত পেয়ে উচ্ছ্বসিত রমজান বলেন, “পুলিশের প্রতি আমার আস্থা ছিল। মোবাইল ফিরে পেয়ে খুব খুশি আমি।”
মগবাজারের ব্যবসায়ী লুৎফর রহমানের আইফোন সেভেন প্লাস উদ্ধার করেছে এপিবিএন সাইবার ক্রাইম ইউনিট। মোবাইল হাতে পেয়ে তিনি বলেন,“এর আগে ১টা আইফোন হারিয়েছি। সেটা পাইনি। কিন্তু এবার পাবো ভাবিনি। যেভাবে উদ্ধার করেছে মোবাইলটা তাতে পুলিশের ওপর আমার আস্থা অনেক বেড়ে গেল।”
ডিআই/এসকে