ঢাকা, সোমবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
রাজবাড়ীর সাবেক এমপি কেরামত কাজী গ্রেফতার
পল্লবী থানার বিশেষ অভিযানে ৩০ মামলার আসামিসহ ১২জন গ্রেফতার
গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে পিআরপি’র সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক
ঘোড়াঘাটে আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থার র্নিবাচনে সভাপতি লুইস :সম্পাদক মাইকেল
সদিচ্ছা থাকলে মানুষের কল্যাণ সম্ভব: চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সমাজকল্যাণ সচিব
নড়াইলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালন
ছোট বোনের সাথে বিয়ের প্রস্তাব, বড় বোনের সাথে প্রেম : অতঃপর রহস্যজনক নিখোঁজ
নলছিটিতে তুচ্ছ ঘটনায় দুই যুবককে পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষরা
ঝালকাঠিতে অস্ত্র মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির ১৪ বছরের কারাদণ্ড
একই রশিতে গাছ থেকে ঝুলন্ত মা-ছেলের লাশ উদ্ধার
সোনারবাংলা ইয়ুথ ক্লাবে’র ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
ঈদে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নওগাঁর শাহাগোলা রেলস্টেশনের ‘মটকা চা’
কুড়িগ্রামে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালিত
নান্দাইলে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ইন্দুরকানীতে ঈদের আনন্দে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

চাকরির প্রলোভনে ট্যুরিস্ট ভিসায় কিশোরীকে দুবাইতে বিক্রি করে দেয় দুই বোন

রাজধানীর ডেমরা এলাকার অসহায় কিশোরী জান্নাত আক্তার (১৭)কে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যৌনকর্মী হিসেবে দুবাইতে পাচার ও নির্যাতনে হত্যা ঘটনার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ফারজানা (৩৫) ও সোহাগী ওরফে রিয়া (৩০)।

গতকাল শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

রবিবার (২৪ মার্চ) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন,২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জান্নাত আক্তার (১৭)’কে দুবাই প্রবাসী ফারজানা ও তার বোন সোহাগী মিলে দুবাইতে যৌনকর্মী হিসেবে পাচার করে দেয়। পরবর্তীতে সেখানে যাওয়ার কয়েক দিন পর ৮ সেপ্টেম্বর জান্নাতের এর মৃত্যু হয়। তবে বিষয়টি পাচার চক্র পরিবারের কাছে গোপন রাখে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ দূতাবাসে এক কিশোরীর লাশ দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন দুই প্রবাসী। এরই সূত্রে নিহত জান্নাতের পরিবার জানতে পারে জান্নাতের মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তীতে তার লাশ দেশে আনা হয়। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার আদালতে মানব পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় দুই বোন ফারজানা ও সোহাগীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর মামলাটি গ্রহণ করে থানা। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে দুই বোনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক আরও বলেন,নিহত কিশোরী জান্নাত রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকায় আসামিদের প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস করত। নিহত জান্নাতের বাবা জাহাঙ্গীর সিএনজি চালক মা অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালায়। এভাবে টানাপোড়েনের সংসারে হাল ধরতে জান্নাতকে বিদেশে নিয়ে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখায় প্রতিবেশী সোহাগী ও ফারজানা।

দুই বোন মিলে জান্নাতের পরিবারকে বুঝায়,তাকে দুবাই নিয়ে একটি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ দিবে। যার মাধ্যমে অনেক ভালো বেতন এবং ভাতাসহ অন্যান্য অনেক সুবিধা পাবে। আর এতে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরে আসবে। দুবাই নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ার খরচের কথা বলে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। যা জান্নাতের পরিবার ঋণ করে যোগাড় করে দেয়।

কিশোরী জান্নাতের নামে ভুয়া নাম ঠিকানায় পাসপোর্ট ও টুরিস্ট ভিসা দিয়ে দুবাই পাঠানো হয়। ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট জান্নাতকে তারা দুবাই পাঠায়। দেশটিতে যাওয়ার দুই দিনের পর জান্নাত তারা বাবাকে জানায় আসামিরা দুবাইতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে যৌনকর্মী হিসেবে পাচার করা হয়েছে।

দুবাইতে যাওয়ার পর অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

র‌্যাব-৩ অধিনায়ক জানান,অমানবিক নির্যাতনের ফলে ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দুবাইতে মারা যায় জান্নাত। ফলে দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে না করায় সোহাগীর দ্বারস্থ হয় জান্নাতের বাবা-মা।

সোহাগী ও ফারজানা মিলে জান্নাতের পরিবারকে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে জানায় য,তাদের মেয়ে দুবাইতে খুব ভালো আছে,সময় পেলেই যোগাযোগ করবে।

পরবর্তীতে একই বছরের ২৪ নভেম্বর দুবাই প্রবাসী ফেসবুকে দূতাবাসে লাশ দেখতে পেয়ে পাসপোর্টের তথ্য ও ছবি দিয়ে পোস্ট করে। এই পোস্টের সূত্রে ২৬ নভেম্বর মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারে জান্নাতের বাবা-মা। পরবর্তীতে জান্নাতের বাবা মামলা দায়ের করলে জানুয়ারি দেশে ফিরে সোহাগী ও ফারজানা আত্মগোপনে চলে যায়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গত রাতে র‍্যাব-৩ তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ