ঢাকা, রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পঞ্চগড়ের বোদায় গুম, খুন, ছিনতাই, ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল
ফুলবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের নিয়ে ঈদ পূর্ণমিলনী
চাঁদাবাজির অভিযোগে কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে শোকজ
রাজধানীর’ খেতাপুড়ি ‘দখল করেছে পটুয়াখালীর ঝাউবন
ঝিকরগাছায় কিশোরকে বস্তা কিনতে পাঠিয়ে ভ্যান নিয়ে চম্পট
১৭ বৎসর আন্দোলন সংগ্রাম করেছি ,দরকার হলে আবারো নামা হবে: আজিজুল বারী হেলাল
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়
আমতলীতে হামলা, লুট ও পিটিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ

পেষ্ট কন্ট্রোল প্রয়োগের ভুল তথ্যের কারণে প্রাণ যায় দুই শিশুর,শীঘ্রই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন

রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তেলাপোকা মারার স্প্রে’র বিষক্রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। পেস্ট কন্ট্রোল কোম্পানি ডিসিএস অর্গানাইজেশন লিমিটেডের মালিকসহ চার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবহেলায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। চলতি বছরের ভাটারা থানায় নিহত দুই শিশুর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, বিষ স্প্রে কার পরবর্তীতে তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে দুই শিশুর মৃত্যু হওয়ার বিষয়টির প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ছিল সেবা দেওয়া নয় মুনাফা করা। মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দুই একদিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করবে গোয়েন্দা পুলিশ। এই ঘটনায় চার আসামি গ্রেফতার হয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ডিসিএস অর্গানাইজেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান( ৩৭), ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ফরহাদুর আমিন ( ৩৩), সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মো. মোছলে উদ্দিন শামীম ( ৩০)। স্প্রে অপারেটর মো. টিটু মোল্লা ( ৩৭)।

বৃস্প্রতিবার ( ২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবিতে নিজ কার্যালয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন জানান ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
হারুন অর রশীদ বলেন, ১৪ ও ১০ বছরের অবুঝ দুই শিশু পেস্ট কন্ট্রোলের কারণে অকালে ঝড়ে গেলো। তারা মায়ের কোল খালি করে চলে গেছে। আমরা তদন্ত করতে গিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে পেস্ট কন্ট্রোলের কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং ম্যানিজিং ডাইরেকটরকে গ্রেফতার করেছিলাম। তখন আমরা বলেছিলাম আরও যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে চার্জশিট দেওয়া হবে।

আজকে আমরা চারজনকে এ সঙ্গে সম্পৃক্ততা পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আমরা চার্জশিট প্রদান করবো। আমরা চার্জশিট প্রদান করার আগে এ বিষয়ে যারা অভিজ্ঞ অর্থাৎ পেস্ট কন্ট্রোল নিয়ে যাদের অভিজ্ঞতা আছে তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।ন এখানে কৃষি সসম্প্রসারণ অধিদফতরের লাইসেন্সের নিয়ন-কানুনে স্পষ্ট করে বলা আছে, যে বাসা বাড়িতে পেস্ট কন্ট্রোল করা যাবে না। এসব কেমিকেল বাসা বাড়ির জন্য ক্ষতিক্ষর। এলোমিনিয়াম ফসফেট ব্যবহারের কারণে এই মৃত্যুটা ঘটেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ছাড়াও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। চিকিৎসকরাও একই কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে মত দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মোছলে উদ্দিনকে পেষ্ট কন্ট্রোল প্রয়োগের পর নিহত শিশুর পরিবার যখন অস্থিকরবোধ করছিল। শিশুদের মা ফোন করে বলেছিলেন, পেষ্ট কন্ট্রোল স্প্রে করার পর আমার ছেলেরা কেমন যেন এলোমেলো করছে। তখন বলেছে তিন থেকে চার ঘন্টা পরে এটা ঠিক হয়ে যাবে কোন চিকিৎসার দরকার নাই।

তিনি আরও বলেন, এটি প্রয়োগের আইন কানুন না জেনে মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করে। চিকিৎসার প্রয়োজন সে কথা বলে কালক্ষেপণ করার জন্য মৃত্যুটি ঘটেছে। তাছাড়া আমরা জানি পেস্ট কন্ট্রোল স্থানে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা বায়ু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। অথচ মুসলিম উদ্দিন বাদিকে সঠিক তথ্য না দিয়ে পেস্ট কন্ট্রোল করার তিন চার ঘন্টার মধ্যে বাসায় অবস্থান করা যাবে বলে তাকে জানায় এবং তারা এমন ভুল তথ্য উপস্থাপনন করে। বাসায় এলোমেনিয়াম ফসফেট বাসায় ব্যবহার করা যাবে না। এ সম্পর্কে তারা না জেনেই বিক্রির জন্য তারা বিভিন্ন বাসা বাড়িতে আবাসিক এলাকায় ব্যবহার করার জন্য তারা বিক্রি করছে।

গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, তাদের উচিত ছিল পেস্ট কন্ট্রোল প্রয়োগের পরে নিয়ম-কানুনটা বলে দেওয়া। নিয়ম-কানুন না বলার কারণে আজকে বাবা-মা তাদের দুইটি শিশু বাবা মায়ের কূল শূন্য করে চলে গেলেন। এ ঘটনাটা আমাদের গুলশান গোয়েন্দা বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে অতি অল্প সময়ে আসামীদের গ্রেফতার করে। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে আমরা চার্জশিট প্রদান করেছি। এসব বিষয়ে আমরা যেন সচেতন থাকি। আর যারা বিক্রেতা কোন জিনিটা কোথায় বিক্রি করতে হবে এই নিয়ম-কানুন জেনেই যেন বিক্রি করেন সে বিষয়ে আমরা আহবান জানান ডিএমপির এ কর্মকর্তা।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ