

স্টাফ রিপোর্টারঃযশোরে ঘুষের টাকাসহ আটক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) আশরাফুল আলমের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে দুদকের আইনি প্রক্রিয়া, অন্যদিকে আটক কর্মকর্তার মুক্তির দাবিতে হাজারো শিক্ষকের রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে যশোর। এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে।গত ১০ ও ১১ জানুয়ারি যশোর সার্কিট হাউসে অবস্থান করে ঘটনার বিস্তারিত শুনানি করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান, অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই টিম অভিযোগকারী শিক্ষক নূর নবী এবং অভিযুক্ত ডিপিইওর পক্ষে-বিপক্ষে নানা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন।কমিটি সূত্রে জানা গেছে, কেবল শিক্ষকই নন, জেলার প্রায় ৫৩ জন শিক্ষা কর্মকর্তার (টিও এবং এটিও) লিখিত বক্তব্যও গ্রহণ করেছে এই টিম। তবে শিক্ষা কর্মকর্তারা সবাই ডিপিইওর পক্ষ নিয়েছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।তদন্ত চলাকালে যশোরের প্রায় ২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে এবং সম্মিলিতভাবে তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত পত্র জমা দিয়েছেন। তাদের দাবি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম কোনো দুর্নীতির সাথে জড়িত নন, বরং তিনি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগকারী শিক্ষক নূর নবীকে ‘দুষ্টু প্রকৃতির’ হিসেবে উল্লেখ করে তাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।
আশরাফুল আলমের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে বিশাল মানববন্ধন করেন শিক্ষকরা। শিক্ষক নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও শাহিনুর রহমানসহ বক্তারা অভিযোগ করেন, “এটি একটি পরিকল্পিত পাতা ফাঁদ। একজন সৎ কর্মকর্তাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চলছে।” মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে। এসময় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।তদন্ত কমিটির প্রধান যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমান জানান, অধিদপ্তরের শৃঙ্খলা শাখার নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৮ জানুয়ারি এই কমিটি গঠিত হয়। তিনি বলেন, “আমরা ১০ ও ১১ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নিবিড়ভাবে শুনানি গ্রহণ করেছি এবং কিছু স্পট সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”অন্যদিকে, সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষকরা তাদের প্রিয় কর্মকর্তার মুক্তির দাবিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নেমেছেন। তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যশোরের বসুন্দিয়া খানপাড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নূর নবীর কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম ডিপিইও আশরাফুল আলমকে আটক করে। সেই রাত থেকেই তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে সরব রয়েছেন জেলার প্রাথমিক শিক্ষকরা।