

আকতার হোসেন, মিরসরাই
মিরসরাইয়ে বেড়াতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডু’বে আরাফাত হোসেন মাহিন (১০) নামে এক স্কুল ছাত্রের মৃ’ত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা এগারোটা দিকে ৯নং মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মান্দারবাড়িয়া এলাকার মাওলানা ওলি আহাম্মদ সাহেবের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডু’বে সে মা’রা যায়।
নি’হত মাহিন উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পশ্চিম অলিনগর গ্রামের সওদাগর বাড়ির কাতার প্রবাসী আক্তার হোসেন প্রকাশ মুক্তার এর ছেলে এবং পশ্চিম অলিনগর বিএমকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এর আগে ২০২০ সালের ৫ এপ্রিল তার কুলসুমা আক্তার মুন্নী’ শ্বশুরবাড়িতে মৃত্যুবরণ করে। মা’কে হারিয়ে এতিম হয়ে যায় ছেলেটি। মায়ের অভাব অনেকটা কাটিয়ে সর্বদা আগলিয়ে রাখেন তার মামা ফিরোজ আহমেদ প্রকাশ ফিরোজ মাষ্টার।
নিহত মাহিনের বড় মামা ফিরোজ আহমেদ মাষ্টার জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্নীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে আসি। শুক্রবার সকাল এগারোটা দিকে আমার ভাগিনা উঠানে খেলিতেছিল কিন্তু দীর্ঘ সময় তাকে দেখা না যাওয়ায় সকল স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে অবশেষে পুকুরপাড়ে গেঞ্জি দেখতে পেয়ে পুকুরের পানিতে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে দুপুর বারোটা দিকে তাকে উদ্ধার করে মিঠাছরা ডাইনামিক হাসপাতালে নিয়ে আসি সেখান থেকে মৃত্যু নিশ্চিত করার পরও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তান নগর আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হাকিম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে অনীহা প্রকাশ করায় লাশ থানায় নিয়ে এসে হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সকল কাজ চলমান অবস্থায় নিহতের পিতার আপত্তির প্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে উদয়ন ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম শাহীন বলেন, একটা শিশু বাচ্চা পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও থানার সামনে এ্যাম্বুলেন্সে নিথর দেহ পড়ে থাকা এবং পাষণ্ড পিতার আপত্তিতে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত হওয়া খুবই হৃদয়বিদারক ও অমানবিক।