

সোহেল সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা :-
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার প্রান্তিক হাওরবেষ্টিত এলাকা ধামাউরা, গুজিয়াখাইল ও ফেদিয়ারকান্দি এলাকায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, হাওরের পানি বের হওয়ার পথে বাঁধ নির্মাণ ও বালু ভরাটের কারণে জয়নগর ও অরুয়াইল ইউনিয়নের একাংশ মারাত্মক জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাতলপাড়-অরুয়াইল সড়কে অরুয়াইল সংলগ্ন মন্দির (আখড়া) এলাকার পাশে প্রায় চল্লিশ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজের পুরো অংশ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। এতে করে ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এভাবে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেলে অরুয়াইল ও জয়নগর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ স্থায়ী জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হতে পারে।
এছাড়াও, সরাইল উপজেলার অরুয়াইল উত্তরাংশে মন্দির (আখড়া) সংলগ্ন খালেও বালু ভরাটের কাজ এখনো চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খালটি দীর্ঘদিন ধরে হাওরের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এ বিষয়ে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন তরী বাংলাদেশ-এর সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, “হাওর অঞ্চলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হলে কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা অবিলম্বে এসব অবৈধ বাঁধ ও বালু ভরাট বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য মাননীয় জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে চলতি মৌসুমেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।