

নিজস্ব প্রতিবেদক,সকালের খবর :
মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ এনে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে কলঙ্কিত করা হয়েছে- এমন দাবি তুলে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাউসুদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তারা পরিকল্পিতভাবে দায়ের করা ধর্ষণ মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের নলের চর মান্নান নগর বাজারে চানন্দি ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও চানন্দি ইউনিয়ন বিএনপির পূর্ব শাখা সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিএনপি নেতা শাহারাজ, ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. হেলাল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইয়াছিন আলী সুজন, ইউপি সদস্য বেলাল মাঝি প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে থেকেই হান্নান মাউসুদের সমর্থকরা হাতিয়াজুড়ে সহিংসতা চালায়। নির্বাচনে জয়লাভের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হান্নান মাউসুদের দেওয়া এক বক্তব্যের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে তারা দাবি করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, হান্নান মাউসুদের সমর্থদের তান্ডবের পর চানন্দি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিরোধমূলক মিছিল বের করলে নলের চর ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা থেকে যোগ দিতে আসা লোকজনের ওপর হামলা করা হয় এবং এতে রহমান নামের এক কর্মী আহত হন। পরবর্তীতে এসব ঘটনা আড়াল করতেই হান্নান মাউসুদ পরিকল্পিতভাবে এক নারীকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন। যা দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয় এবং কলঙ্কিত হয় হাতিয়।
বক্তারা বলেন, সাজানো ধর্ষণের ঘটনায় সরেজমিনে পুলিশ তদন্ত করে কোন সত্যতা পায়নি। হাসপাতালের রেকর্ডেও কোন সত্যতা মেলেনি। তার পরও ওই নারীকে দিয়ে আদালতে মিথ্যা ধর্ষণের মামলা দায়ের করে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানী করা হচ্ছে।
মানববন্ধন থেকে বিক্ষোভকারীরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে হান্নান মাউসুদকে হাতিয়ার মাটিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য- হাতিয়া উপজেলায় ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে সম্প্রতি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় হামলার পর স্বামীকে আটকে রেখে এক আসামি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।