

ডেস্ক রিপোর্ট : দিনাজপুর জেলার ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন দিনাজপুর জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার গৌতম কুমার দাস। তিনি নিয়মিত বাজার তদারকি, খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে কঠোর নজরদারি, খাদ্যের মান পরীক্ষা এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলার খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুসংহত ও কার্যকর করে তুলছেন।
দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, সুপারশপ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন তিনি। এসব অভিযানে ভেজাল খাদ্য, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত খাবার, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্য ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নিরাপদ ও অনুমোদিত কাঁচামাল ব্যবহার, সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্কুলে আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জানানো হচ্ছে—
১) খোলা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত খাবার গ্রহণের ক্ষতিকর দিক, ২) অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার (চিপস, আচার, ইনস্ট্যান্ট নুডুলস) গ্রহণের স্বাস্থ্যঝুঁকি, ৩) অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় (কোল্ড ড্রিঙ্কস, মিষ্টি, কেক, আইসক্রিম) গ্রহণের নেতিবাচক প্রভাব, ৪) খাদ্যে কাপড়ের রং ও অন্যান্য কৃত্রিম রং ব্যবহারের মারাত্মক ঝুঁকি, ৫) শাকসবজি ও ফলমূল থেকে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ দূরীকরণের নিরাপদ পদ্ধতি,
৬) ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব এবং তা পরিহারের গুরুত্ব।

জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার গৌতম কুমার দাস বলেন,
“ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত তদারকি, অভিযান ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কেউ যেন অনিরাপদ খাদ্যের শিকার না হন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও জানান, নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে হোটেল-রেস্তোরাঁ, খাবার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ও খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অননুমোদিত উপাদান ব্যবহার কিংবা আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে তাদের জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, বাসি ও নিম্নমানের খাবার বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা, গ্লাভস ও হেয়ারকভার ব্যবহার, রান্নাঘর ও কর্মচারীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা সনদ, লাইসেন্স ও মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ ও হালনাগাদ রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক, কৃত্রিম রং, সংরক্ষণকারী পদার্থ বা ভেজাল উপাদান রয়েছে কিনা তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনিরাপদ খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য শনাক্ত ও অপসারণ সম্ভব হয়।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ বর্তমানে শুধু স্থানীয় নয়, বরং একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি সংকট বাড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেশের প্রেক্ষাপটে অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় জেলা পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা তিনি বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

আইন অনুযায়ী জনগণের নিরাপদ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ কর্তৃপক্ষের মূল উদ্দেশ্য। জেলা পর্যায়ে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার গৌতম কুমার দাস নিয়মিত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

সচেতন মহলের মতে, গৌতম কুমার দাসের এসব উদ্যোগ দিনাজপুরে খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
একজন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা কেবল রাষ্ট্রের প্রতিনিধি নন, তিনি সমাজে ভোক্তার আস্থার প্রতীক। তাঁর কার্যকর, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম, নিরাপদ সমাজ এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও দৃঢ় হচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, খাদ্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার, নিয়মিত নজরদারি, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি নিরাপদ খাদ্য পরিবেশ গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।