

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:পঞ্চগড়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র গোপন ও বেআইনিভাবে আটকে রাখার ও জমি দখলের অভিযোগে স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক জামাই। ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারায় দায়ের করা এ মামলাটি পঞ্চগড় বিজ্ঞ আদালত গ্রহণ করেছেন।
মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম চাঁদপুরের খেরুদিয়া এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তার স্ত্রী ও শ্বশুর পরিকল্পিতভাবে বাদীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান।এসব কাগজপত্রের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত দলিলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, কাগজপত্র ও জমির দখল ফেরত পাওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও আসামিরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বরং নানা অজুহাতে টালবাহানা করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে চাপে রাখা হয়। এতে করে তিনি চরম মানসিক হয়রানির শিকার হন এবং আইনি ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় পড়েন।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে জাহাঙ্গীর আলম পঞ্চগড় বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতে দাখিল করা আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধারের স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারার আশ্রয় গ্রহণ করা হয়।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন
আমার শ্বশুর যেভাবে আমার সম্পত্তি ভোগদখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, তা কল্পনার বাইরে। পঞ্চগড় শহরে আমার ক্রয়কৃত জমি কৌশলে তার মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এছাড়া মির্জাপুর ও সর্দারপাড়ায় আমার জমি রয়েছে, যেগুলো তিনি ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। অথচ আজ পর্যন্ত আমাকে ওই জমিগুলো দেখতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলমের শ্বশুর কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি কাগজে উল্লেখ রয়েছে যে খাদেমুলের নিকট থেকে ক্রয়কৃত ১৫ শতক জমির খাজনা পরিশোধের ফটোকপি খারিজ না হওয়ায় মূল দলিল প্রদান করা সম্ভব হয়নি।
সারা জমিনে তদন্তে গিয়ে জানতে পারি জামাইয়ের জমিগুলো মির্জাপুরের সাবেক জাহিদ চেয়ারম্যানের দখলের হইয়াছে।
অপরদিকে মামলার আসামি মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এ. জেড. এম. বজলুর রহমান (জাহিদ) ও তার মেয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমরা তার সব কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়েছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা। আসলে আমার জামাই মানসিকভাবে অসুস্থ।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র গোপন বা বেআইনিভাবে আটকে রাখার ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারায় মামলা একটি কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ। এ ধরনের মামলার মাধ্যমে আদালতের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।