ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

২৮ অক্টোবরের পর ঢাকায় ৬৪ যানবাহনে আগুন-ভাঙচুর

গত ২৮ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানীতে ৬৪ টি বাসে আগুন, ভাংচুর ও নাশকতা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন।

শুক্রবার (১০ নভেম্বর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ‘নাশকতার উদ্দেশ্যে বাসে আগুন দেয়ার সময় ২ জন ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৩ জন গ্রেফতার এবং অগ্নি-সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দেয়ায় পুরস্কার প্রদান সংক্রান্তে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত ২৮ অক্টোবর থেকে তিন দফা অবরোধ ও একদিন হরতাল পালিত হয়েছে। এ কর্মসূচিতে জনগণের স্বাভাবিক জনজীবনে বিঘ্নিত করার প্রয়াস করা হয়েছে। ২৮ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪ টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও নাশকতা করা হয়েছে। যাত্রীবেশে গাড়িতে উঠে আগুনে দিয়ে নেমে যায় নাশকতাকীরা। এই ঘটনায় একজ বাসের হেলপার নিহত হয়েছেন ও অনেক মানুষ আহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে হাতেনাতে এখন পর্যন্ত ১২ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করার জন্য তারা অবরোধের আগের দিন বা অবরোধের দিন আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, একদিনের হরতাল ও তিন দফা অবরোধের কারণে মহানগরবাসীর জীবন যাত্রা ব্যহত হয়েছে। যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে ডিএমপি ইতিবাচক। এসব কর্মসূচির নিরাপত্তা প্রদানের জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। সেই কাজটি আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে আমরা দেখেছি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রকাশিত ও অগ্রহণযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুষ্কৃতিকারীরা ঢাকা মহানগর এলাকায় ৬৪ টি বাসে আগুন দিয়েছে। দাহ্য পদার্থ ব্যহার করে দুষ্কৃতিকারীরা বাসে আগুন দিয়েছে। এতে করে দ্রুত করে বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৩১ অক্টোবর রাতে একজন হেলপারকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। রাজধানীর ১২ টি স্থানে আগুন দেওয়ার সময় ১২ জন দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সকলকে একটি অনুরোধ করতে চাই, রাজনৈতিক কর্মসূচি হলে ডিএমপি তার জায়গা থেকে যা যা করার তা করবে। কেউ যদি নাশকতা ও অগ্নিসংযোগ করে তাহলে ডিএমপি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আমরা আশা করব সামনে রাজনৈতিক কর্মসূচি আসলে সেটা যেন ধ্বংসাত্মক না হয়। যারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করে তারা যেন এসব না করে তাদের বলতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, এসব দুষ্কৃতিকারীদের বিভিন্ন জায়গা থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের দেওয়ার পর তারা নির্বিচারে এসব নাশকতার কাজ করে।আমরা ইতমধ্যে জেনেছি আগামী ১২ ও ১৩ নভেম্বর অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। আমরা সকলকে ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাব, কেউ যেন রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে গণধ্বংসাত্মক কার্যক্রম না করে।

গ্রেফতার ১২ জনের রাজনৈতিক পরিচয় কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে ১২ জনকে আমরা গ্রেফতার করেছি তারা প্রত্যেকই অবরোধ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এমন দেখা গেছে, একজন আরেক জনকে নিয়োগ করেছে আবার আরেক জন অন্য জনকে নিয়োগ করেছে। তারা বিভিন্নভাবে অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে মানুষ জনকে ভীত করার জন্য এবং মানুষ যেন ভয়ে রাস্তায় না নামতে পারে সেই লক্ষ্যে তারা অবরোধের আগের দিন ও অবরোধের দিন নাশকতা করেছে।

নাশকতার কর্মকাণ্ডের পিছনে টাকা পয়সার কোনো লেনদেনের কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, টাকা পয়সা লেনদেনের দুয়েকটি তথ্য আমরা পেয়েছি। ছদ্মবেশ কেউ নাশকতা করে সেটিকে ১০০ ভাগ নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন। প্রতিদিন যে কয়েকটি ঘটনা ঘটছে, আমাদের মনে রাখতে হবে তারচেয়ে অনেক গুণ ঘটনার পরিকল্পনা কিন্তু প্রতিহত করা হয়েছে। না হলে নাশকতার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতো।

টাকা পয়সা নাশকারীদের কি কোনো পার্টির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই, তাদের অনেক ক্ষেত্রে প্রলোভন দেওয়া হয়েছে ‘তোমার জায়গা যদি সুদৃঢ় রাখতে চাও তাহলে এই কাজটি করে দাও’। এই ধরনের অনেক তথ্য আছে।

এই পার্টিগুলো কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা অবরোধের ডাক দিয়েছেন তারা এসব পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের লোক তারা। তাদের কে চিহ্নিত করার জন্য ও নাশকারীদের পিছনে কারা সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, জনগণ এখন সচেতন। তারাও নাশকতা ঠেকাতে সোচ্চার। ইতোমধ্যে নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য একজনকে পুরষ্কৃত করা হয়েছে। বাকি আরও কয়েকজন আছে। তাদের বিষয় যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ

স্বত্ব © ২০২৩ সকালের খবর ২৪