ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সেতু আছে, সড়ক নেই

শৌখিন মিয়া, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে কোমরভাঙ্গী ভিটাপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় তা কাজে আসছে না। এ কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাসহ স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের। সড়কের অভাবে সেতুতে উঠতে বাঁশের মই ব্যবহার করছেন তারা।

জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে কোমরভাঙ্গী ভিটাপাড়া এলাকার জামাইপাড়া বেড়িবাঁধ যাওয়ার রাস্তায় আব্দুল কাদেরের বাড়ির কাছে খালের ওপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। কাজটি পান মেসার্স শীতল কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মামুনুর রশিদ। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২২৪ টাকা। সেতুটি নির্মাণের পর পূর্ব পাশে সামান্য মাটি ফেলা হলেও পশ্চিম পাশে মাটি ফেলা হয়নি। এ কারণে সেতুতে মই লাগিয়ে চলাচল করছে মানুষ। সংযোগ সড়কহীন এ সেতুর কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাদুরচর ইউনিয়নের কোমরভাঙ্গী ভিটাপাড়া, জামাইপাড়া, পুরাতনপাড়া, শিবেরডাঙ্গী, পাখিউড়া, কোমরভাঙ্গী উত্তরপাড়া এলাকাসহ ১০ গ্রামের মানুষ। দীর্ঘদিন থেকে সেতুটি এভাবে সংযোগ সড়কহীন থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার মানুষ।

ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ি কোমরভাঙ্গী জামাইপাড়া। আমি মোটরসাইকেলে চলাচল করি। কিন্তু ব্রিজের এই অবস্থা হওয়ায় অন্যের বাড়িতে মোটরসাইকেল রেখে হেঁটে বাড়ি যাই।’ শুধু তারাই নয়, উপজেলার কোমরভাঙ্গী ভিটাপাড়া, পুরাতন পাড়া, শিবেরডাঙ্গী মাস্টারপাড়া, পশ্চিমপাড়া, জামাইপাড়া, পাখিউড়া, সায়দাবাদসহ ১০টি গ্রামের মানুষ এ পথে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন, ফাতেমা খাতুন, লিমন মিয়া, আসাদুল্লাহ, আলপনা খাতুন ও মাজেদা খাতুন বলে, প্রতিদিন মই দিয়ে সেতু পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। সেতুতে উঠতে গিয়ে সবাই ভয়ে থাকে, কখন পড়ে যায়। দ্রুত সেতুটির দুই পাশে মাটি ভরাটের দাবি জানায় তারা।

সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরবেশ আলী।

মেসার্স শীতল কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মামুনুর রশিদ বলেন, ‘বিল না পাওয়ায় সেতুর সংযোগের কাজটি শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।’

রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন বলেন, ‘এখনো সেতুর চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। ঠিকাদারকে বলা হয়েছে, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে চলাচলের উপযোগী করা হবে

শেয়ার করুনঃ

স্বত্ব © ২০২৩ সকালের খবর ২৪