

কুয়েল ইসলাম সিহাত, বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের পৃথক দুই সীমান্ত দিয়ে ভারতের বিএসএফ কর্তৃক পুশইন করা ১৫ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নীলফামী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।শনিবার (৫ জুলাই) ভোর রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা এবং সিংরোড সীমান্ত দিয়ে ৫ জন শিশু ও নারী-পুরুষসহ ১৫ জনকে পুশইন করা হয়। সকালে বিজিবির টহল দল তাদের আটক করে স্থানীয় ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তবে এবার নতুন কৌশল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর। তারা রাতের আঁধারে সীমান্ত বাতি নিভিয়ে দেয়, এরপর চলে বাংলাদেশে পুশইন। এ নিয়ে সীমান্তে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার স্থানীয়রা। এর আগের দিন শুক্রবার (৪ জুলাই) ভোরে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের সিংরোড বিওপির সীমান্ত পিলার ৭৬৪/১৯-এর খুনিয়াপাড়ায় ১০ জনকে ঠেলে দেয় বিএসএফ। একই সময়ে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের অমরখানা বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ৭৪৩/৩ এস সংলগ্ন এলাকায় ৫ জনকে ঠেলে দেয় বিএসএফ। সকালে বোর্ডবাজার এবং খুনিয়াপাড়া থেকে বিজিবির টহল দল তাদের আটক করে। পরে দুপুরের দিকে পঞ্চগড় সদর থানায় আটককৃতদের হস্তান্তর করে বিজিবি।পুলিশ বলছে, থানায় তাদের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আপাতত তাদের পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হবে। সঠিক পরিচয় পাওয়ার পর আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ হিল জামান বলেন, বিজিবি ১৫ জন বাংলাদেশী নাগরিককে পঞ্চগড় সদর থানায় সর্পদ করেছেন। তারা বাংলাদেশী নাগরিক কিনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বাংলাদেশী নাগরিক হলে তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।এ দিকে সীমান্তবর্তী স্থানীয়রা বলেন, বিএসএফ পরিকল্পিতভাবে সীমান্তে বাতি বন্ধ করে দিয়ে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। তবে বিজিবির পাশাপাশি নিজেরা সতর্ক রয়েছেন বলে জানান বাসিন্দারা।স্থানীয়রা আরও বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের ওপর ভারতের লাইট (বাতি) আমরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা জ্বলে থাকতে দেখি। কিন্তু শনিবার রাতে হঠাৎ লাইট অফ হয়ে যায়। ফলে মানুষ পার করার ঘটনাটি ঘটে।