

মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থল মাইন বিস্ফোরণে গত ৬ দিনে পা হারালেন ৪ জন। এর পরেও থেমে নেই চোরাচালান পাচারকারীরা। দিন দিন যখন তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ঠিক তেমনি প্রতিনিয়ত ঘটছে স্থল মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা।
এরই ধারাবাহিকতায় ২২ জুন থেকে ২৬ জুন ৬ দিনের মধ্যে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থল মাইন বিস্ফোরণ ৪ জন পা হারায়।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ৩৩-৩৪ পিলের মধ্যেবর্তী লাল কাইন্দা এলাকায় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থল মাইন বিকট শব্দে বিস্ফোরণে মোঃ ইউনুছ (২৫) নামের এক রোহিঙ্গা যুবকের পায়ের গোড়ালি উড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। সে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এজাহার হোসেনের ছেলে বলে জানা যায়। এর আগের দিন বুধবার (২৫ জুন) সকালে সদর ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি সীমান্তের ৪৬-৪৭ সীমান্ত পয়েন্টের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এক বাংলাদেশী চিহ্নিত চোরাকারবারি যুবক স্থল মাইন বিস্ফোরণে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গুরুতর আহত হয়। তার নাম গুরা মিয়া (২৫) সে রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের মৌলভীর কাটা এলাকার সাবের আহমেদের ছেলে বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৩ জুন) বিকাল ৪ টায় আরাকানের রাখাইন রাজ্যের তংচংগা নামের ১৯ বছরের এক যুবক বাংলাদেশ চিকিৎসা নিতে আসার সময় স্থল মাইন বিস্ফোরণ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। এছাড়াও গেল রবিবার (২২ জুন) দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের জামছড়ি সীমান্তের ৪৪ নং পিলারের সে দেশের অভ্যন্তরে সদর ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি গ্রামের খুল্ল্যামিয়ার ছেলে আরফাতুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশী যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গুরুতর আহত হয়। এ সংবাদ লেখা কাল পর্যন্ত পা হারানো ৪ জনেই বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। সম্প্রতি এক তথ্য অনুসন্ধানে উঠে আসে চোরাচালান কারবারি করতে গিয়ে এ চার জনসহ বিগত ৬ মাসে মিয়ানমার সীমান্তে সে দেশের বিদ্রোহী সংগঠন আরকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থল মাইন বিস্ফোরণে ১৪ জন স্থল মাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়।এছাড়াও অসংখ্য গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণী সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে হতাহত হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম বাহাদুরসহ অনেকে জানান গত ৬ দিনে ৪ জন ছাড়া এর আগে সীমান্তে যারা পা হারালেন এরা হলেন আব্দুস সালাম, তৈয়ব উল্লাহ,মোহাম্মদ বাবু, আনসার ভিডিপির সদস্য নবী হোসেন,মোঃ রাসেল,সিরাজুল ইসলাম (প্রকাশ ধলা পুতিয়া) বেলাল হোসেন,রোহিঙ্গা মোঃ জোবাইরসহ ১০ জন।এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মো: মাসরুল হক সকালের খবর ২৪ কে বলেন, সীমান্তে অনেকে আহত হয়েছে এসব ব্যক্তিরা পুলিশ কিংবা বিজিবির বাঁধা উপেক্ষা করে চোরাই পণ্য পাচার ও আনা নেওয়ার সাথে সীমান্ত পার হয়ে মিয়ানমার অভ্যন্তরে যাওয়াতে এসব ঘটনার কবলে পড়েন বলে তিনি জানতে পারেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে বিজিবির কঠোর পদক্ষেপে সীমান্তে চোরাই পণ্য আনা নেওয়া কিছুটা বন্ধ হলেও ইয়াবার চালান আসা বন্ধ হচ্ছে না।