মাকে বাঁচাতে তিতুমীর শিক্ষার্থীর সাহায্যের আবেদন

18

মাহামুদুল হাসান লিমন,তিতুমীর কলেজঃ

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী লাবনী হোসাইনের মা খুব অসুস্থ । দুটি কিডনি বিকল নিয়ে মিরপুর কিডনি ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। চিকিৎসার খরচ ব্যয়বহুল হওয়ায় পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা’র ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এমতাবস্থায়, গর্ভধারিণী মাকে বাঁচাতে আকুতি জানিয়েছেন লাবনী। তাই সমাজের বিত্তবান, সহপাঠী, বন্ধু ও নিজ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে মাকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন করেছেন তিনি। সবাই যদি অল্প অল্প করে সহোযোগিতা ও সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়ায় তাহলে বেঁচে যেতে পারে তার গর্ভধারিণী মায়ের প্রাণ।

সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুরে তাদের গ্রামের বাড়ি । তার বাবা একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। লাবনী এবং ছোট দুই ভাই ও মা – বাবা নিয়ে ছোট্ট পরিবার তাদের। ছোট দুই ভাইয়ের এক ভাই এসএসসি পরীক্ষার্থী অন্য জনের বয়স পাঁচ বছর। ফলে উপার্জনক্ষম একমাত্র দারিদ্র্য শ্রমিক পিতার পক্ষে তার মায়ের চিকিৎসা খরচ চালানো সম্ভব নয় বলে জানান লাবনী। দীর্ঘ বারো বছর ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছেন তার মা মোসা. আর্জিনা বেগম।

লাবনী জানান, মাস খানেক আগে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন ঢাকায়। মিরপুর কিডনি ফাউন্ডেশনে রেখে চলছে চিকিৎসা। কিন্তু সুস্থ থাকতে একদিন পর পর প্রতি সপ্তাহে চারবার করতে হয় ডায়েলসিস। সপ্তাহে খরচ হয় দশ হাজার থেকে বারো হাজার টাকা যা বহন করতে পারছে না তার পরিবার। ডাক্তার বলেছেন সম্পূর্ণ সুস্থ হতে করতে হবে কিডনি প্রতিস্থাপন যার আনুমানিক ব্যয়ভার সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। কিডনি ডোনার পাওয়া গেলেও টাকার অভাবে তা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।

লাবনী বলেন, আমার মা অনেক অসুস্থ ৷ দুটো কিডনি নষ্ট। ডোনার থাকলে অপরেশন খরচ দিতে পারছি না সাড়ে তিন লাখ টাকা লাগবে। তাই আপনাদের কাছে আমার আবেদন আমাকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করলে মা কে বাচাঁতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য যদি সবাই অল্প অল্প সাহায্য করেন তবে সেই টাকা দিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করে নিবো। তাছাড়া কিডনি প্রতিস্থাপন না করলে প্রতি সপ্তাহে যে ডায়ালাইসিস খরচ প্রয়োজন হয় তাও আমাদের কাছে নেই। ফলে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা দেখা দিয়েছে। আমি আমার মাকে বাঁচাতে চাই কিন্তু আমি সদ্য অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া একজন শিক্ষার্থী। আমি কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। সবাই দয়াকরে আমার মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।

যোগাযোগ ও সাহায্য পাঠাতে নিচের নম্বরগুলো অনুসরণ করতে বলা হয়েছে –

01777674958 (বিকাশ)
01930234473 (বিকাশ)
01575012396 (বিকাশ)
01906927846 নগদ/ রকেট

এদিকে ফেইসবুকে তার বন্ধু সহপাঠীরা সাহায্য চেয়ে পোস্ট করছেন। সংগ্রহ করছেন ফান্ড। তাদের মধ্যে একজন তিতুমীর কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আকাশ বলেন, আমরা সবাই চেষ্টা করছি তার জন্য টাকা সংগ্রহের। তবে যে টাকার প্রয়োজন কলেজ বন্ধ থাকায় তা আমাদের শিক্ষার্থীদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আসুন সহযোগিতার হাত বাড়াই। আমাদের সহপাঠী’র মায়ের দুটো কিডনিই অকেজো। মিরপুর কিডনি ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। চিকিৎসার খরচ ব্যয়বহুল হওয়ায় সেই পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা’র ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

কিডনি ডোনার পাওয়া গেলেও প্রতিস্থাপন এর জন্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার প্রয়োজন। যা তাদের জন্য জোগাড় করা কষ্টসাধ্য। তাই আমরা আর্থিক ভাবে সাহায্য করে এই পরিবারের পাশে থাকতে চাই, দয়া করে সবাই সাহায্য করুন। তাহলে, একটি মায়ের প্রাণ বেঁচে যাবে।