আর স্কুলে ফেরা না-ও হতে পারে অনেক শিক্ষার্থীর

28

ছাদেকুর রহমান,মহেশখালী-কক্সবাজার। 

করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্টান।

করোনা সংক্রমণের হার কমে আসায় দীর্ঘ ১৮মাস বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্টান খুলে দিচ্ছে সরকার । সরকারিভাবে দেশের সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুল ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী।সব কিছু ঠিক থাকলেই আগামী ১২সেপ্টেম্বর রবিবার শিক্ষা প্রতিষ্টান খুলবে।

ইতি মধ্যে দীর্ঘ ১৮মাস বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্টানের হল রুম এবং চারপাশ পরিষ্কার পরিচন্ননের কাজ করতেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।তবে ১৮ মাস বন্ধের পর এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক সংবাদ। সংবাদমাধ্যমে লক্ষ করেছি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য টিকা, মাস্ক পরা ইত্যাদিসহ সব ধরনের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই স্কুল ও কলেজ খুলে দেওয়া হচ্ছে। 

আশা করি, শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দৃষ্টি রাখার পাশাপাশি তাদের একাডেমিক বিষয়গুলোও যেন সমানভাবে গুরুত্ব পায়।

 শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ২০২১ সালের এসএসসি/এইটএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রত্যেক দিন বিদ্যালয়ে যাবেন। এছাড়া অন্যান্য ক্লাস সাপ্তাহে একদিন করে চলবে।একইভাবে প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণি প্রতিদিন ক্লাস চলবে এবং অন্যান্য ক্লাস সপ্তাহে একদিন।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে উপাচার্যদের সাথে আলোচনায় বসে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এরআগে অক্টোবরের ১৫ তারিখের পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা থাকলেও শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ভালো হলে এরআগেই খুলতে পারে।

 বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) প্রকাশিত এক জরিপে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতির আগে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ২০.৫ শতাংশ। তবে করোনাকালে এই হার বেড়ে হয়েছে ৪২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অতি দারিদ্র্য। তিন গুণ বেড়ে এটি এখন হয়েছে ২৮.৫ শতাংশ। গত ২ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত জরিপটি চালানো হয়। দরিদ্রতার মুখোমুখি ৫৬ শতাংশ পরিবার দাবি করেছে, করোনার সময় তাদের আয় কমেছে। ধার করে, সঞ্চয় ভেঙে এবং খাদ্য ব্যয় কমিয়ে এই সংকট মোকাবেলা করেছে তারা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, যেখানে ধার করে সংসার চালাচ্ছেন, সেখানে দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারটি মাথায়ই রাখেনি। এসব দরিদ্র পরিবারের অনেক সন্তান শিশুশ্রমে যুক্ত হয়েছে, যারা আর স্কুলে না-ও ফিরতে পারে।

নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার বিষয়ে বাবা-মায়েদের তাগিদ কম। দরিদ্রতার কারণে অনেক পরিবারই তাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করে দিয়েছে।  

অনেক শিক্ষার্থী শহরে নেই। অনেকেই গ্রামে চলে আসছে। স্কুল খোলার পরে তারা আবার আসবে কি না সংশয়ে আছেন তারা। কারণ পরিবারের ব্যয় মেটাতে না পেরে অনেকেই শহর ছেড়েছেন।১২ সেপ্টেম্বর যদি প্রাথমিক,মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক খুলে দেয় সরকার, ২৫ ভাগ শিক্ষার্থী ফিরে পাবেন কি না শঙ্কায় আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •