

শ্রীবাস সরকার, মাধবপুর প্রতিনিধি :হবিগঞ্জের মাধবপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক নাহিদ মিয়া। রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নাহিদ মিয়া বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এ ওয়ান–এর মাধবপুর প্রতিনিধি ও স্থানীয় পত্রিকা তরফবার্তা–এর স্টাফ রিপোর্টার।পাশাপাশি তিনি মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবীপুর গ্রামের মোতাহার হোসেন জাবেদ ও তার সহযোগীরা নাহিদ মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে আগত সাহারা খাতুন মুক্তা নামে এক নারী তার স্বামীর অধিকার ফিরে পেতে জাবেদ মিয়ার ছেলে আকিল মিয়ার বাড়িতে আসেন। ওই নারী স্থানীয় চেয়ারম্যানের বাড়ির কাছে অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, জাবেদ মিয়া মুক্তাকে তার পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকার না করে তাকে অপমান ও অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এ খবর পেয়ে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহে যান। এ সময় সাহারা খাতুন মুক্তার বক্তব্য নিতে গেলে দুর্বৃত্তরা সাংবাদিক নাহিদ মিয়ার ওপর হামলা চালায়।
সাংবাদিক নাহিদ মিয়া বলেন,আমি শুধু সত্য উদঘাটনের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তারা আমার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায় এবং ফোন ছিনিয়ে নেয়।
চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন,সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, একজন সংবাদকর্মীর ওপর এমন হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন,বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত মোতাহার হোসেন জাবেদ ২০২৪ সালেও স্থানীয় ব্যবসায়ী এজাজ আহাম্মদ–এর দায়ের করা ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি নিজের মা নিলবানুর দায়ের করা মামলাতেও জেল খেটেছেন। এলাকাবাসীর ভাষায়, জাবেদ একজন চিহ্নিত দাঙ্গাবাজ ও প্রভাবশালী বখাটে।
ছবিতে অভিযুক্ত জাবেদ