

সোহেল সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা:-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫০ বছর ধরে গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করা সেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবার দু-একদিনের মধ্যে তারা আবার আগের সেই স্থানে গান গাইতে শুরু করতে পারেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিভিন্ন মহল থেকে তাদেরকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারের প্রধান ব্যক্তি হেলাল মিয়া জানান, গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) তারা প্রতিদিনের মতো গান করছিলেন। এরই মধ্যে কয়েকজন এসে গান গাইতে বাধা দেন।
যে দলই ক্ষমতায় আসুক তাদেরকে এখানে গান গাইতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। বাউল শিল্পী আবুল সরকারের কথাও এসময় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তাদেরকে ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাতে বলা হয়। অন্যথায় এখানে এলে কেউ বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়।
তবে কে বা কারা এসে বাধা ও হুমকি দিয়ে গেছেন এ বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি। তবে কিছু মাদরাসাছাত্র বাধা দেন বলে তিনি ধারণা পোষণ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামের হেলাল পরিবারে মোট ১৩ জন সদস্য। এর মধ্যে নয়জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।
উপার্জনক্ষমদের মধ্যে তিনি নিজে, চার ছেলে ও এক মেয়ে চোখে দেখেন না। তবে তারা কারো কাছে হাত পাতেন না। গান গেয়ে যে আয় হয় তা দিয়ে চলে তাদের ১৩ জনের বড় সংসার। এ নিয়ে চলতি মাসে কালের কণ্ঠ পত্রিকায় খবর প্রকাশসহ ডিজিটালে সংবাদ প্রচারিত হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর মুক্তমঞ্চে প্রতিদিনই দেখা মিলতো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এ পরিবারটির।
এখানে বসেই তারা গান গেয়ে শুনান। গানে খুশি হয়ে টাকা দেওয়ার অনুরোধ করেন। প্রতিদিন এক থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত তারা আয় করতেন।
হেলাল মিয়ার বয়স ৬৫ পেরিয়েছে। সদর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের গানের শিল্পী শাহনূর শাহ এর কাছে থেকে হেলাল মিয়া সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ নেন ছেলে বেলাতেই। মাত্র ১০-১২ বছর বয়স থেকেই গান করে বেড়াতেন। পরবর্তী সময় সন্তানদেরকেও গান শেখান। ৫০ বছর ধরে হেলাল মিয়া ও পরবর্তী সময় তার পরিবারের সদস্যরা পৌর মুক্ত মঞ্চে গান করতেন।
হেলাল মিয়া বলেন, ‘আমরা ভয়ে এখন এখানে গান করছি না। ৫০ বছর ধরে গান গাইলেও এমন হয়নি। এখন এমন কোনো জায়গাও পাচ্ছি না যে গান গাইব। গান গেয়ে আয় করতে না পারলে আমাদের সংসার চলা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান গান গাওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। ওনার সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই কিছু একটা করব।’
সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘ওই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারটিকে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করেছি। শুনেছি কিছু যুবক তাদেরকে গান গাইতে নিষেধ করেছেন। তাদেরকে আসতে বলেছি। আশা করি কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।’
জামিয়া ইউনুসিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি মো. মোবারক উল্লাহ সাংবাদিকদেরকে জানান, গত বুধবার এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে তার জানা নেই। তবে আরো অনেক আগে তাদেরকে হামদ-নাত গাইতে বলা হয়েছিল।
গতকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) এ বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমীন আক্তার জাহানের নজরে আসে। তিনি এ বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিফাত মো. ইসতিয়াক ভূঁয়াকে দায়িত্ব দেন।”