

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কর্তৃক ফেনী এলাকায় বন্যা পরবর্তী উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন সোমবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ২০২৪ সালে বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় পেশাদারিত্বের সঙ্গে বন্যার্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
বিমানবাহিনী প্রধান ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার দুর্গাপুরে অবস্থিত হাবিব উল্যাহ্ খান উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অত্র বিদ্যালয়ের নবনির্মিত দ্বিতল বিশিষ্ট ‘শাহীন ভবন’ ও ছাগলনাইয়া এবং ফুলগাজী উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন শেষে বিমানবাহিনী প্রধান সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবং দুর্গাপুর সিংহনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নুরুল কোরআন ইসলামিয়া মাদ্রাসার উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং বিশেষ করে ফেনী জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বন্যার সঙ্গে তৎকালীন বৈরি আবহাওয়া ও বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে বন্যার্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসে, যা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল।
এ পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার দিক-নির্দেশনায় এবং বিমানবাহিনী প্রধানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ভয়াবহ এ বন্যাদুর্গত কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং বিশেষ করে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ফেনী জেলায় হেলিকপ্টার ও ইউএভি এর মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে এরিয়াল রেকোনাইসেন্স মিশন পরিচালনা করে বন্যা দুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রয়োজনীয় জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এ সময়ে বিমানবাহিনী প্রধান বন্যা কবলিত এলাকায় পরিদর্শন করেন এবং বন্যা দুর্গত মানুষের ক্ষয়-ক্ষতি পূরণকল্পে বন্যার পানি সরে যাওয়ার পরপরই পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ প্রদান করেন।
বিমানবাহিনীর সদস্যরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণের অভাব লাঘবে শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় বিদ্যালয়গামী করতে সক্ষম হয়।
সামগ্রিকভাবে বিমানবাহিনী কর্তৃক বন্যা পরবর্তী এ পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলার বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা, ধর্মীয় উপাসনালয় ও রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ এবং সংস্কার কার্যক্রম ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া, দূর্গাপুর, ছাগলনাইয়্যা-এ অবস্থিত হাবিব উল্যাহ্ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদা বিবেচনা করতঃ শাহীন ভবন নামে একটি চারতলা ভিত বিশিষ্ট দুইতলা ভবন আসবাবপত্রসহ নির্মাণ করা হয়েছে, যেটি দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
এ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করেছে ঢাকাস্থ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশার ও বিমানবাহিনী ঘাঁটি একে খন্দকার। বিমানবাহিনী প্রধান সুধী সমাবেশে সর্বপ্রথম প্রধান উপদেষ্টার সময় উপযোগী দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এর পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে যে সকল প্রতিষ্ঠান আর্থিক, ত্রাণ ও বিভিন্নভাবে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে, তাদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফুর্ত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরণের কার্যক্রমে বিমানবাহিনী দেশ ও জনগণের পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নোয়াখালী জেলাতেও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে।
অনুষ্ঠানে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের এয়ার অধিনায়ক, বিমান বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফেনী জেলা প্রশাসক, সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিআই/এসকে