

মোঃ আশরাফুল আলম,দিনাজপুর ফুলবাড়ী প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মাদক ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ০৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ আনুমানিক ১০৩০ ঘটিকায় অত্র ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ রসুলপুর বিওপির একটি টহলদল গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, আন্তর্জাতিক শুন্য রেখা হতে আনুমানিক ১৪০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাংলাদেশী নাগরিক মৃত জাহিরুল চৌধুরীর ছেলে মোঃ আফিত (১৪), গ্রাম- রসুলপুর (পলিপাড়া), ডাকঘর- মুরারীপুর, থানা- ফুলবাড়ী, জেলা- দিনাজপুর এর বসত বাড়ীতে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশ হতে ভারতে প্রবেশের জন্য একত্রিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে রসুলপুর বিওপির টহলদল কর্তৃক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাড়ীটি ঘেরাও করে রাখে। পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে মৃত জাহিরুল চৌধুরীর এর বাড়ী তল্লাশী করে ০৬ জন সন্দেহ জনক ব্যক্তিদের আটক করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তিদের পরিচয় নিম্নরুপঃ সংঘবদ্ধ মানব, নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের সদস্য ভারতীয় নাগরিক নেপাল বর্মন (২৯), পিতা-সুতিশ বর্মন , গ্রাম- মারগ্রাম, থানা-নোইল, জেলা- দক্ষিণ দিনাজপুর, ভারত।
জলি রাণী (৩০), পিতা- ওমর বর্মণ, গ্রাম- শালবাড়ী, থানা- মহাদেবপুর, জেলা- নওগাঁ, বাংলাদেশ।তনুশ্রী রাণী (১০), পিতা- মিঠু চন্দ্র, গ্রাম- শালবাড়ী, থানা- মহাদেবপুর, জেলা- নওগাঁ, বাংলাদেশ।রাজশ্রী রাণী (৩), পিতা- মিঠু চন্দ্র, গ্রাম- শালবাড়ী, থানা- মহাদেবপুর, জেলা- নওগাঁ, বাংলাদেশ।শ্রী বিজন কুমার দাস (৫৫), পিতা- মৃত নিতাই চন্দ্র দাস, গ্রাম- বড়চাঁদপুর, থানা- পত্নীতলা, জেলা- নওগাঁ, বাংলাদেশ।
শ্রীমতি লিপি রাণী দাস (৪৭), স্বামী- শ্রী বিজন কুমার দাস, গ্রাম- বড়চাঁদপুর, থানা- পত্নীতলা, জেলা- নওগাঁ, বাংলাদেশ।আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ভারতীয় নাগরিক নেপাল বর্মন গত ২০২২ সাল হতে বিভিন্ন সময়ে বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতঃ বাংলাদেশ হতে ভারতে মানব, নারী ও শিশু পাচার করে আসছে। এরই ধারাবহিকতায় গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ হিলি আইসিপি দিয়ে বাংলাদেশে বৈধভাবে প্রবেশ করে বাংলাদেশী নাগরিক দুই সন্তানের জননী জলি রাণীর (প্রথম স্বামী মৃত মিঠু চন্দ্র) সহিত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করে। পরবর্তীতে পাচারের উদ্দেশ্যে তার বিবাহিত স্ত্রী জলি রাণী’কে দুই সন্তানসহ এবং শ্রী বিজন কুমার দাস ও তার স্ত্রী শ্রীমতি লিপি রাণী’কে ভারতে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে গত ০৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রসুলপুর গ্রামে মৃত জাহিরুল চৌধুরী এর বাড়ী’তে আসে। পরবর্তীতে সে ০৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বৈধভাবে ভারতে গমন পূর্বক উক্ত পাচারের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন শেষে গত ০৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ পুনরায় হিলি আইসিপি দিয়ে বাংলাদেশে আগমন করতঃ বর্ণিত বাংলাদেশী নাগরিকদের ভারতে পাচারের জন্য রসুলপুর গ্রামের মৃত জাহিরুল চৌধুরী এর বাড়ীতে গমন করলে অদ্য ০৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক আটককৃত হয়। উল্লেখ্য বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে সংঘবদ্ধ মানব, নারী ও শিশু পাচারকারী সদস্য বাংলাদেশী নাগরিক (১) মোঃ ভোলা, গ্রাম- কাটলা বাজার, থানা- বিরামপুর, জেলা-দিনজপুর (২) মোঃ রোস্তম এবং (৩) মোঃ শহিদুল এর যোগসাজসে উক্ত ভারতীয় পাচারকারী নেপাল বর্মন বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশ হতে ভারতে মানব, নারী ও শিশু পাচার করে থাকে। আটককৃত ব্যক্তিদের ফুলবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট সকল সরকারী প্রতিষ্ঠান সমূহকে এই বিষয়ে অবগত করা হয়েছে এবং প্রতিপক্ষ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন’কে কঠোর প্রতিবাদ জানান হয়েছে।