

মোঃমাহফুজুর রহমান বিপ্লব,
সুমা ইসলাম (,রেনু) এক হার না মানা নারীর জীবন গল্প। যার জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত ছিল বেঁচে থাকার লড়াই। যে জীবন টাকে খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছে, জীবন তাকে শিখিয়েছে মানুষ হয়ে সমাজে বেঁচে থাকতে। যেখানে থাকবেনা কোনো বৈষম্য। পদে পদে নানা বাঁধা অতিক্রম করে তাকেও আজ এ পর্যায়ে আসতে হয়েছে। হ্যা আজ তার জীবনের বড় প্রাপ্তি ঘটেছে। সে পেরেছে জীবনের মানে টা খুঁজে বের করতে।
বাংলাদেশের হরেক উন্নয়ন কর্মযোগে সামনে এগিয়ে চলার দৃশ্য চমৎকৃত হওয়ার মতোই। সঙ্গতকারণে সমসংখ্যক নারীও সেভাবে পিছিয়ে থাকছে না। নানা মাত্রিক বিপন্নতা ও জীবনকে অসহনীয় দাবানলে দগ্ধ করে দেয় বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা সমাজের রন্ধ্রে,রন্ধ্রে। এমনকি গ্রামেগঞ্জে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া নারীদের জীবন যে কত দুর্বিসহ যা আধুনিকতার বলয়কেও প্রশ্নবিদ্ধ করে যাচ্ছে।
ফরিদপুর সদর ১০ কৈজরী ইউনিয়ন বনগ্রামের মেয়ে সুম ইসলাম (রেনু) লড়াকু হার না মানা নারীই শুধু নন বরং পিতৃহীন সন্তান হিসাবে একজন পরিশ্রমি নারী। সুমার নাম অত্র এলাকার অনুপ্রেরণা যা প্রত্যেক নারীর মধ্যে আজ সে অনুপ্রেরণা শিহরিত হয়।
একটি বেসরকারি স্কুল থেকে তার কর্ম জীবন শুরু। এর পর থেকে বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান সহ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন আর্থিক সচ্ছলতা এবং স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে তুলতে শিক্ষা স্বাস্থ্য, বাল্য বিবাহ রোধ, যৌতুক প্রথা, গবাদি পশু পালন স্থানীয় জলবায়ু সহনশীল, স্থায়িত্বশীল, কৃষি প্রকল্প, সরকারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রকল্প কাজ করার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র, হতদরিদ্র সচেতনতা, স্বাস্থ্য পুষ্টি নিরাপদ খাদ্য,সহ বিভিন্ন সমাজসেবক মূলক কাজ করে আসছেন, এবং কি নারীর অবমূল্যায়ন এর বিরুদ্ধে সে রুখে দাঁড়ায়।তার এই সমাজসেবা সহ সচেতনামূলক কাজের ভূমিকা রাখায় অত্র এলাকাবাসী তাকে ইউপি সদস্য হিসাবে নির্বাচিত করেন। বর্তমান তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইউপি সদস্য হিসাবে সততা এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
আজ হয়ত এলাকাবাসী সহ প্রত্যেকে তাকে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ছিনছে, সম্মান করছে কিন্তু এ তার একদিনের প্রাপ্তি নয়। এ অবস্থানে আসতে তাকেও অনেক পরিশ্রম লড়াই করে যেতে হয়েছে। সমাজের জন্য, অসহায় মানুষের জন্য সে কিছু করতে পেরেছে এ তার পরম প্রাপ্তি। নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে, সমাজের কিছু হিংসা পরায়ণ, কুচক্রীয় মহলের চোখে খারাপ হয়েও এগিয়ে যাওয়ার তার লক্ষ্যে।
জীবন মানুষ কে কতই না শিক্ষা দেয়। কেউ পারে এগিয়ে যেতে সকল বাধা অতিক্রম করে, কেউ বা হতাশার অনলে জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে যারা প্রতিবন্ধকতা গুলোকে মোকাবেলা করতে শেখে তারাই জীবনে জয়লাভ করে। অথচ সুমা ইসলাম রেনু নিজেও হয়তো বা জানেন না তিনি কতখানি নারী শক্তি অনন্য নজির।অবাক করা দৃষ্টি ভঙ্গিতে কথা গুলো বলছে রেনু। কথা গুলো যে তার অন্তঃস্থল থেকে আসছে সেটা বোঝার আর বাকি থাকলো না।