

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুর সদরে পশ্চিম খাবাসপুর মাওলানা আব্দুল আলী সড়কের রহিমের মোড় এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেনের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ৪ ডিসেম্বর রাতে পিছনের সামনের দরজা ভেঙ্গে এই চুরি ঘটনায় ঘটে। এ সময় ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট হয়েছে বলে জানা যায়।
জানাযায়,সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন চ্যানেল ওয়ান ও জাতীয় দৈনিক যায়যায়কাল পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি কর্মরত।
সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেনের সাংবাদিকতায় সাহসীকতা, এবং সৎ নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করার জন্য (মে মাসের) ১১ তারিখ রাতে একদল সন্ত্রায়ীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। সে হামলায় গুরুতর আহত হোন তিনি। ফরিদপুর ডাক্তারটাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। সেই থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িটি খালি থাকায় সুযোগ বুঝে সংঘবদ্ধ একটি চোরের দল এ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে।
সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন জানায়, ফরিদপুরে আমি বেশ কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করি। সেই সূত্রে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়। শুধু তাই আমার পরিবারকে আমার উপর হামলার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি দামকি দিয়ে চলছে। সেই শত্রুতার জের ধরেই হয়তো আমার বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে চুরি করা হয়েছে।”
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভাঙচুর করা হয়েছে ঘরের আলমারি, শোকেস, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন সামগ্রী। ঘরের প্রতিটি কক্ষ তছনছ করা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি,, মূল্যবান ইলেকট্রনিকস, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রসহ নানান সামগ্রী মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কোতোয়ালী থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম নুরুজ্জামান।
তিনি বলেন,ঘরের ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির আলামত আমরা পেয়েছি। যদি ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় রাতে টহল কম থাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বেড়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন বলেন,
“সাংবাদিকতা করার কারণেই আমাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। জীবননাশের আশঙ্কা নিয়ে আমাকে চিকিৎসাধীন থাকতে হচ্ছে। এর মধ্যেই আমার বাড়িতে হামলা ও চুরি—এটি নিছক চুরি নয়, এটি ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা।”ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।