

শ্রীবাস সরকার, মাধবপুর প্রতিনিধিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া বাজারে তিন গ্রামের সংঘর্ষে থানার ওসি–সহ ১১ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) ভোরে নোয়াপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাধবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পাবেল আহম্মেদ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পরিদর্শক মোঃ কবির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সোমবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াপাড়ার ইউনিয়নের বেঙ্গাডোবা, ইটাখোলা, মোড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ থেকে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ বাধে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাজার এলাকায় জড়ো হলে উত্তেজনা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতের বেশি মানুষ আহত হন।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়েই সবচেয়ে বিপদে পড়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ইট–পাটকেলের আঘাতে আহত হন মাধবপুর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা’সহ ১১ পুলিশ সদস্য। পরে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৮ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।
ওসি সহিদ উল্যা সকালের সময়কে বলেন উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ৮ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। তখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে শাহজীবাজার সেনা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর সংঘর্ষ থেমে যায় এবং বাজার এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়ে।
ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, গ্রেপ্তার এড়াতে শত শত মানুষ গ্রাম ছেড়ে আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক বাড়িতে এখন আর পুরুষ সদস্য নেই বললেই চলে।