

মোঃ কামরুজ্জামান হেলাল, স্টাফ রিপোর্টারঃপটুয়াখালী -১ আসন’র বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল( অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী’র প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না মিয়া কর্তৃক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত। সুত্রে জানা গেছে, উক্ত প্রার্থী এবং তাঁর প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক কে জড়িয়ে জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যে মিথ্যাচার, অসত্য, বানোয়াট,বিভ্রান্তমূলক এবং দলীয় সিদ্ধান্ত পরিপন্থী বক্তব্যের প্রতিবাদে- সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সংবাদ সম্মেলন টি অনুষ্ঠিত হয় ২৮ নভেম্বর শুক্রবার বিকাল ৪ টায় উক্ত প্রার্থীর পটুয়াখালী শেরে বাংলা সড়কস্হ সুরাইয়া ভিলায়।এ সংবাদ সম্মেলনে উক্ত প্রার্থী’র নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়কারী মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না মিয়া লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য যা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন তা নিম্নে তুলে ধরা হলো, গতকাল ২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমাকে পদবিহীন এবং বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে অনুপস্থিতির কথা বলে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে তাহা সম্পূর্ন অসত্য এবং বিভ্রান্তিকর। আমি ওইসব অসত্য বিভ্রান্তিকর মনগড়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা মিথ্যাচারের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ করে আমাকে শুধু রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ছাড়াও সামাজিকভাবে ছোট করার শামিল। বিগত সময়ে আমি যুবদল পটুয়াখালী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে এসেছি। তাছাড়া বিগত সময় পটুয়াখালী জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সহ- সভাপতি পদসহ বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলাম। সর্বশেষ পটুয়াখালী জেলা বিএনপি’র সম্মেলনে একতরফাভাবে বিভিন্ন উপজেলার পকেট কমিটি জানা সত্ত্বেও বিভিন্ন অনিয়মের মধ্যেও সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করে ৪ শত’র বেশি ভোট পেয়েছি। তাছাড়া এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমি পটুয়াখালী জেলা বিএনপি’র সবচেয়ে সিনিয়র রাজনৈতিক ব্যক্তি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় সংবাদ সম্মেলনকারীরা এইসব তথ্য সম্পর্কে অবগত থেকেও মিথ্যাচার করে আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমি এইসব মিথ্যাচারের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। তাছাড়া দীর্ঘদিন পর্যন্ত জেলা বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটির না হওয়ার কারণে আমার মত নির্যাতিত নিপীড়িত মামলা হামলার শিকার জেল খাটা নেতাকর্মীরা আজকে পদবিহীন।গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনে বিএনপি মনোনীত দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী, সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ- দুমকী) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন ঘোষনা করেন। পরদিন ৪ নভেম্বর সকালে আলতাফ হোসেন চৌধুরী নীজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি’র সাথে যোগাযোগ করলে তার আমন্ত্রনে ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। আলতাফ হোসেন চৌধুরী সেখানে গিয়ে স্নেহাংশু সরকার কুটি, মোশতাক আহমেদ পিনু সহ অনেকের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। এছাড়াও আলতাফ হোসেন চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে নিজে মোবাইল ফোনে স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, মজিবুর রহমান টোটন ও মোশতাক আহমেদ পিনুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দর সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে সেদিন কুট্টি সরকারের ওখানে আলতাফ হোসেন চৌধুরী কে কতটুকু সম্মান দেখিয়েছেন এবং তাকে সেখানে অবস্থান গ্রহণের জন্য কতটুকু সময় দিয়েছিলেন তার বড় সাক্ষী ও প্রমাণ সাংবাদিকরা। তারা একটি সভার কথা বলে বার বার সেখান থেকে চলে যাবার জন্য বলা হচ্ছিল। আমার প্রশ্ন জেলা বিএনপির কার্যালয় থাকতে ৭নভেম্বরের মত একটি গুরুত্বপূর্ন মিটিং কি করে সভাপতির ব্যবসায়িক অফিসে হতে পারে। জেলা বিএনপি সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি এভাবে মিথ্যাচার, অসত্য, বানোয়াট, বিভ্রান্তমূলক এবং দলীয় সিদ্ধান্ত পরিপন্থী কথাবার্তা বলে আসছেন। এটা তাঁর চিরায়িত অভ্যাস এবং রাজনৈতিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট। তাঁর এ ধরণের কর্মকান্ডের জন্য ২০০২ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েও পরবর্তীতে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। বিভিন্ন সময়, বিভিন্নভাবে মিথ্যাচার, অসত্য, মিথ্যা-বানোয়াট, বিভ্রান্তমূলক কথাবার্তা বলে দলের মধ্যে গ্রুপিং, বিশৃঙ্খলা এবং নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে বেশ দক্ষ তিনি এবং এটাই হচ্ছে তাঁর রাজনৈতিক হাতিয়ার। ২০১০ সাল থেকে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে কারা রাজপথে আন্দোলন করেছেন, আর কে জোরালো আন্দোলন সৃষ্টি হলে ভারতে এবং কানাডায় চলে যেতেন তা নেতাকর্মীরা সবাই জানেন। সর্বশেষ চব্বিশের জুলাই আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ আগস্টের আগ দিন পর্যন্ত এই স্নেহাংশু সরকার কুট্টি কোথায় ছিলেন তা আপনারা সকলেই অবগত আছেন। তিনি ৫ আগস্টের পর মুক্ত ও স্বাধীন পটুয়াখালীতে আসেন এবং পটুয়াখালীতে এসে তিনি এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা কি কি করেছিলেন তাও সকলেই অবগত আছেন। তাই তাঁদের ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডের কথা বলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাই না। স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও মজিবুর রহমান টোটনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে আলতাফ চৌধুরী রাজনীতি করছেন’। আমি তাঁদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, আজকে আমার পাশে যারা উপস্থিত রয়েছেন তারাই তো আলতাফ চৌধুরী’র পাশে থাকেন। এদের মধ্যে কে কে বিতর্কিত? (সাংবাদিকদের) বলুন, আপনাদের কাছে তো এই শহরের পুরো চিত্র রয়েছে। যারা দফায় দফায় দল পাল্টিয়েছে, ‘১৯৯৭ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে মোশতাক আহমেদ পিনু তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী আ.খ.ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুজিব কোর্ট পড়ে আওয়ামীলীগে যোগ দেন এবং মোশতাক আহমেদ পিনু পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। বিতর্কিত ১/১১ সরকারের সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান : তারেক রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করে দেশ থেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চোখের পানি ঝরছিলো ঠিক সেই সময় ১/১১ সরকারের একজন সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী ব্যক্তি ছিলেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এ্যাড, মজিবুর রহমান টোটন। যে ব্যক্তি লোভে পড়ে দলের শীর্ষ নেতানেত্রীর নির্যাতনে ব্যথিত হয়ে লাভজনক পদটি ছাড়তে পারেনি, সেই ব্যক্তি কিভাবে শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক হতে পারে, আমি আপনাদের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী পরিবারের সর্বস্তরে নেতাকর্মীদের কাছে জানতে চাই? বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পটুয়াখালী-১ আসন থেকে যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তিনি পটুয়াখালীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। এই তথ্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাঁর নিজস্ব টীমের তদন্তেও প্রমান পেয়েই তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী। সে কি চাইবে তাঁর দলের নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করতে? আর সেটাই যদি হতো তাহলে ৪ নভেম্বর জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টির ব্যবসায়িক কার্যালয়ে গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা ও কথা বলতেন না। দলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করছেন বিধায়ইতো সেদিন তিনি গিয়েছিলেন। কিন্তু আপনারা কি মূল্যায়ন তাকে করেছিলেন? আপনারা সেদিন তাকে কতটুকু সম্মান দিয়েছিলেন? আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক এমপি ও মন্ত্রী, দলের কুটনৈতিক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং একটি বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তিনি প্রায় ২৫টি মামলা মাথায় নিয়ে ১৬টি বছর নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। পটুয়াখালীস্থ বাসভবনে অসংখ্যবার হামলা ও ভাংচুর করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে বড় পুকুরিয়া মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মামলায় ১৯মাস এবং ২০২৪ সালে প্রহসনের নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় সাড়ে ৫ মাস কারাবরণ করেন। আমরা কাউকে অবমূল্যায়ন কিংবা অসম্মান করিনি এবং করবোও না কখনও। আমরা তাঁদের মত মিথ্যাচার, অসত্য, বানোয়াট, বিভ্রান্তমূলক এবং দলীয় সিদ্ধান্ত পরিপন্থী বক্তব্যও দিচ্ছি না এবং দিবোও না। আমরা সুযোগ সন্ধানী ও দল বদলকারী নেতাকর্মীও না কেউ। আমরা শহীদ জিয়া, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সৈনিক। আলতাফ হোসেন চৌধুরী পটুয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়ার পর পরই জেলা বিএনপি সহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের নির্বাচন করার আহ্বান জানান যাহা বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে। তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যে পটুয়াখালী সদর, পটুয়াখালী পৌরসভা, মির্জাগঞ্জ ও দুমকী উপজেলা বিএনপি এবং ইউনিয়ন বিএনপি’র সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য একত্রিত হয়েছেন। আমি পটুয়াখালী ১ আসনের নির্বাচন পরিচালনার সমন্বয়ক হিসাবে আপনাদের মাধ্যমে দলের সকলের প্রতি উদ্যক্ত আহ্বান জানাবো আসুন আমরা সবাই মিলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করি। এ সংবাদ সম্মেলনে এ সময় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।