

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নোয়াখালীর সুধারাম থানায় দায়েরকৃত একটি মানবপাচার ও ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত আরও দুই আসামিকে রাজধানীর কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অভিযানে অংশ নেয় র্যাব-১১ ও র্যাব-১০-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল।
বুধবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ঢাকার কদমতলী থানাধীন পূর্ব জুরাইন চেয়ারম্যান বাড়ি মোড় থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. সাব্বির হোসেন (২০), মাহমুদা আক্তার মীম (২০)।
র্যাব জানায়, নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলার সূত্র ধরে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ভিকটিম একজন কিশোরী মাদ্রাসাছাত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১ নম্বর আসামির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৬ মে সকালে বিয়ের প্রলোভনে ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ী চলে আসে ভিকটিম। সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে ২০ দিন অবস্থানকালে বারবার ধর্ষণের শিকার হয় সে।
পরবর্তীতে আসামি তাকে সাতক্ষীরায় নিজের বাড়িতে নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু আত্মীয়রা গ্রহণ না করায় পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসে। পরে ভিকটিমকে মোঃ সাব্বির হোসেনের বাসায় রাখা হয়, যেখান থেকে মাহমুদা আক্তার মীমের কাছে তাকে টাকার বিনিময়ে সর্দারনি পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়।
ভিকটিম সুকৌশলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে “Protect Our Sister BD” নামে একটি সংস্থা ১৮ জুন তাকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেয় এবং ওইদিনই নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব অভিযান চালায়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডিআই/এসকে