

নিজস্ব প্রতিবেদক,সকালের খবর
নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের ০৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সোলাইমান মিয়ার বিরুদ্ধে আপন ভাই-বোনদের ওপর হামলা চালিয়ে ও মারধর করে তাদের ওয়ারিশান সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে। আওয়ামী লীগ নেতার দখলবাদি, হামলা ও মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে স্বজন ও স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পশ্চিম চর উরিয়া গ্রামের সোলাইমান ব্যাপারী বাড়ির সামনের সড়কে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্থানীয় নোয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, বিএনপি নেতা রোকন উদ্দিন বাবলু, ভুক্তভোগী ও সোলাইমান মিয়ার ছোট ভাই আবদুল খালেক সওদাগর, তাজুল ইসলাম, আবদুল মান্নান, বোন ছখিনা খাতুন, আলেয়া বেগম, শান্তি বেগম’সহ ভুক্তভোগী স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
আওয়ামী লীগ নেতা সোলাইমান মিয়ার স্বজনরা জানান, তাদের বাবা ইব্রাহিম মিয়া প্রায় পাঁচ একক সম্পত্তি এবং মা সৈয়দা বেগম প্রায় ৬ একক সম্পত্তি রেখে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের মৃত্যুর পর ভুক্তভোগীদের বড় ভাই সোলাইমান মিয়া ওইসব সম্পত্তি জোরপূবর্ক নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তারা তাদের ওয়ারিশান সম্পত্তির ভাগ চাইতে গেলে সোলাইমান ও তার ছেলেরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বেদম পিটিয়ে আহত করেন। যা মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন জায়গায় ন্যায় বিচার চেয়ে অভিযোগ করেছি। কিন্তু সোলাইমান মিয়া প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ ভয়ে তার বিচার করতে চায় না। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমনে সে দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকার বহু নিরীহ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। এই ভূমিদস্যুর বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
তবে মানববন্ধন ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে আড়ালে চলে যান অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা সোলাইমান মিয়া। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার মন্তব্য জানা যায়নি।
এসব অভিযোগের সত্যতার বিষয়ে জানতে স্থানীয় নোয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা ইয়াছিন আরাফাতের মুঠোফোনে কল করলে তিনি জানান, তাদের জায়গা-জমি সংক্রান্ত কোন অভিযোগ আমি পায়নি। তবে অভিযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা অনুযায়ী তা সমাধান করা হবে।