

স্টাফ রিপোর্টার: নির্মাণাধীন ভবনের জন্য খোঁড়া ১৫ ফুট গভীর গর্তের কারণেই ধসে পড়ল যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মোড়ের সর্ববৃহৎ মুদি দোকান ‘পাল স্টোর’-এর দ্বিতল ভবন। গত ৮ নভেম্বর (শনিবার) দুপুর ১টার দিকে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় ভবন এবং দোকানে থাকা মূল্যবান মালামালসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দোকান কর্তৃপক্ষ।স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বসুন্দিয়া মোড়ে পাল স্টোর-এর দ্বিতল ভবনটির পাশেই একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১৫ ফুট গভীর করে মাটি খোঁড়া ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই গভীর গর্তের কারণে মাটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যায়।দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে পাল স্টোরের দ্বিতল ভবনটি ভেঙে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দোকানের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের দেয়াল এবং দুই তলার ছাদসহ পুরো কাঠামোটি একেবারেই ধসে যায়। তবে ঘটনার সময় দোকানের অভ্যন্তরে কোনো মানুষ চাপা না পড়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের পরিচালক পরেশ পাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভবন এবং দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তিনি এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।ভবন ধসের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় যশোর ফায়ার সার্ভিস ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে মালামাল উদ্ধারের কাজ শুরু করেন এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখেন।ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মানিকুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন,প্রাথমিক তদন্তে আমাদের ধারণা, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের পাশে অপর একটি ভবন নির্মাণের জন্য যে ১৫ ফুট গভীর গর্ত দীর্ঘদিন ধরে খুঁড়ে রাখা হয়েছিল সেটাই এই ধসের প্রধান কারণ।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বসুন্দিয়া মোড় বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ ইউসুফ আলী বিশ্বাস এবং বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ফজলুল হক।