

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা কর্মচারীদের বিশ্বাস করে প্রায় ৪০ কোটি টাকা হারালেন নাহিদ এন্টারপ্রাইজ। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিটা কোম্পানিতেই হিসাব রক্ষকের জন্য পারদর্শী বা এক্সপার্ট লোক রাখা হয়। যাতে ব্যবসার হিসাব-নিকাশ সহজেই পাওয়া যায়। তবে রক্ষক যখন হয়ে যায় ভক্ষক। তখন আর কি করার। দীর্ঘদিন ধরে নাহিদ এন্টারপ্রাইজ কোম্পানিতে হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছিল হাসিবুল হাসান রাজীব, মামুন ও শিহাবুর।
দীর্ঘদিন কর্মস্থলে থাকার কারণে অনেকটাই বিশ্বস্ততা অর্জন করেছে মালিক পক্ষের কাছ থেকে এই তিনজন, আর এই বিশ্বস্ততা ও সরলতার সুযোগ নিয়েই মাস্টার মাইন্ড হাসিবুল হাসান রাজীব ও ইব্ররাহীম এর নেতৃত্বে মামুন ও শিহাবুর ও এই ফাদে পা দেয়। যেহেতু তারা তিন জন কোম্পানি সকল হিসাব রাখতো। সেই সুযোগটাই তারা কাজে লাগায়। বিভিন্ন মালের বিক্রির সঠিক হিসাব লেজার বইতে না উঠিয়ে কয়েক মাসেই কোম্পানির প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। তবুও তারা কোন ভাবেই ধরা পরেনি,তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের দৃশ্য মালিক পক্ষের চোখে পড়লে বিষয়টি সন্দেহজনক ভাবে নেয় নাহিদ এন্টারপ্রাইজ।
পরবর্তীতে ধরা পরলে মাস্টার মাইন্ড হাসিবুল হাসান রাজীব তার মায়ের মাথায় হাত রেখে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার স্বীকারোক্তি দেয়। পরবর্তীতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেই পরেরদিন মাস্টার মাইন্ড হাসিবুল হাসান রাজীব ও তার দুই সহকারী কোম্পানি থেকে পালিয়ে যায়।
এদের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় একটি সাধারন ডায়েরি ও পরবর্তীতে আদালতে মামলা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কাউকেই আইনের আওতায় আনতে পারেনি। তবে তাদের ধরিয়ে দিতে পারলে নাহিদ এন্টারপ্রাইজ কোম্পানির পক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা পুরুষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনজন প্রতারকের কারনে কোম্পানীটি বিরাট অঙ্কের লোকশানের সম্মুখীন হয়েছে।
এই বিষয়ে নাহিদ গ্রুপের কর্ণধার ফয়সাল হাসান বলেন,আমার কোম্পানীতে তারা দীর্ঘ সময় কাজ করার সুবাধে আমি তাদের বিশ্বাস করে কোম্পানীর পুরো হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছি।আমাদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তারা আমার কোম্পানীর হিসাব না দিয়ে ৪০ কোটির টাকার ও বেশী নিয়ে তারা লাপাত্তা হয়ে গেছেন।এরই মধ্য আমরা আইনের দারস্ত হয়েছি আশা করি অতিশীর্ঘই তারা আইনের আওতায় আসবেন।
অভিযোগের বিষয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাংবাদিকদের বলেন আমরা উক্ত আসামীদের ধরার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি খুব স্বল্প সময়ে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।