

নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলে প্রথমবারের মতো পশ্চিমা ফল অ্যাভোকাডোর চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা মো. আশরাফ উজ্জামান টিটো।সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের মো. ওলিয়ার রহমানের ছেলে মো. আশরাফ উজ্জামান টিটো নিজ বাড়ির পাশে ৪০ শতক জমিতে করেছেন অ্যাভোকাডো ফলের বাগান। অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট (অব) ও কৃষি উদ্যোক্তা মো. আশরাফ উজ্জামান টিটো জানান, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আফ্রিকার দেশ কঙ্গো থেকে তিনি ৫ টি অ্যাভোকাডোর বীজ এনে রোপণ করেন। তার থেকে ২ টি গাছে ২০১৮ সাল থেকে ফল আসতে শুরু করে। ২০১৯ সাল থেকে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে তিনি এই ফল বাজারজাত করা শুরু করেন। এই ২ টি গাছ থেকে প্রতি বছরে প্রায় লক্ষাধীক টাকার ফল বিক্রি করেন। নিজে চারা উৎপাদন করে ২০২২ সালে ৪০ শতাংশ জমিতে করেছেন অ্যাভোকাডোর বাগান। সেখানে রয়েছে ৪০ টি অ্যাভোকাডো গাছ। এ বছর ওই গাছেও ফলন আসতে শুরু করেছে। তিনি চাষের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি চারাও বাজারজাত করছেন। দামি এই ফলের চারা কিনতে আসছেন দূর দুরান্ত থেকে অনেকেই। চারা কিনতে আসা নড়াইল পৌরসভার আলাদাৎপুরের রিপন বলেন, আমি শুনেছি এখানে অ্যাভোকাডো ফলের বাগান আছে এবং চারা পাওয়া যায় তাই শুনে দেখতে আসছি। আমিও অ্যাভোকাডো ফলের চাষ করব। আজ চারার অর্ডার দিয়ে যাচ্ছি জমি প্রস্তুত করে এসে চারা নিয়ে যাব। নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে আশরাফ উজ্জামান টিটো বলেন, দেশের যেকোনো স্থান থেকে যে কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি তাদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করব। তারা যাতে লাভবান হয় সেজন্য সহযোগিতা করব। নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, অ্যাভোকাডো একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ ভেষজগুণ সম্পন্ন সুস্বাদু ফল। বাংলাদেশে চাষ উপযোগী সম্ভাবনাময়ী বিদেশি এ ফল। দেশে যেসব বিদেশি ফলের চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে তার মধ্যে অ্যাভোকাডো অন্যতম একটি। এটি অন্য ফলের তুলনায় মিষ্টি কম হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপযোগী। ফলের আকার অনেকটা নাশপাতির মতো। একেকটা ফলের ওজন প্রায় ৫০০-৯০০ গ্রাম হয়। এ ফলের ভেতরে ডিম্বাকার বীজ থাকে। খাবার অংশ মাখনের মত মসৃণ, হালকা মিষ্টি স্বাদের। পেঁপের মতো কাঁচা-পাকা ফল, সবজি, ভর্তা, সালাদ, শরবতসহ বিভিন্নভাবে খাওয়া যায় এই ফল। সালাদে, স্যান্ডুইচে মেয়নেজের পরিবর্তে অ্যাভোকাডোর ক্রিম দিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। বাগান পরিচর্যাকারি মিজানুর রহমান বলেন, এই ফল গাছ উঁচু জমিতে চাষ করতে হয়। গাছের গোড়ায় পানি জমলে এ গাছ মরে যায়। আবার গরমকালে গাছে প্রচুর পরিমানে সেচ দিতে হয়। সেচ না দিলে গাছের ফল ঝরে যায়। এবং ঘন ঘন গাছে ছত্রাক নাশক ওষুধ স্প্রে করতে হয়। নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোকোনুজ্জামান বলেন, অ্যাভোকাডো উচ্চ মূল্যের ফসল। এই কৃষককে আমরা সবসময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সেই সাথে অ্যাভোকাডো চাষ বৃদ্ধির জন্য তরুণ, শিক্ষিত, বেকারদের উদ্ভুদ্ধ করে যাচ্ছি।