ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

দেশে প্রথমবারের মত পালিত হলো ওয়ার্ল্ড ডে অফ রিমেমব্রান্স ফর রোড ট্রাফিক ভিকটিমস

দেশে প্রথম বারের মত সড়কে মৃত্যু ও ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণে বৈশ্বিক দিবস হিসেবে ওয়ার্ল্ড ডে অফ রিমেমব্রান্স ফর রোড ট্রাফিক ভিকটিমস পালিত হয়েছে।

রবিবার (১৯ নভেম্বর।) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রঙ্গনে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর সহায়তায় প্রথমবারের মত নানা কর্মসূচি মাধ্যমে দিবসটি পালন করল ডিএনসিসি।

এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে “মনে রেখো। সমর্থন করো এবং ভূমিকা রাখো।” এ দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে, রোড ক্র্যাশের কারণে অকালে যারা মারা গেছে ও যারা পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছে সেসব পরিবারকে একটি প্ল্যাটফরম দেয়া। এর মাধ্যমে সড়কে মারা যাওয়া ও পঙ্গুত্বের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ এবং তাদের জরুরি সেবা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া, সড়ক নিরাপদ করতে গবেষণাধর্মী তথ্য ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়। দিবসটি পালনে আজ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণে ঢাকা শহরের রোড ট্রাফিক ভিকটিমস দের করুণ জীবনকাহিনী নিয়ে তৈরি ফটো স্টোরি কর্ণার জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

এসময়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, সড়কে হতাহতদের করুণ কাহিনী গুলো শোনেন। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান , নীরবতা পালন করেন ও সশ্রদ্ধায় তাঁদের স্মরণ করেন। এসময় তিনি রোড ক্র্যাশে তার পরিবারের এক সদস্য হারানোর বিষয়টি উপস্থিত সকলকে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের জন্য কতটা ব্যাথা বেদনার ছিল তা জানান।

দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে রোড ট্রাফিক ভিকটিমস ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘রোড ক্র্যাশ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ যা আমাদের সকলকে প্রভাবিত করে। ঢাকায় ছোট গাড়ির আধিক্য যানজটের অন্যতম কারণ। আবার যানজট হতে মুক্ত হলে বেপরোয়া গতি লক্ষ্য করা যায়। যান্ত্রিক যানগুলো জেব্রা ক্রসিং ও সিগনালে সঠিকভাবে থামাকে পথচারীদের সড়ক পারাপারে ঝুঁকি কমে আসবে। এছাড়া, ঢাকার অনেক সড়ক পারাপারের জন্য ফুটওভারব্রিজ রয়েছে সেগুলো ব্যবহারেও পথচারীদের ঝুঁকি কমে আসবে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সড়কসমূহকে নিরাপদ করার জন্য আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করছি। বিশেষত, ডিএনসিসি ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস এর বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর আওতায় ঢাকা উত্তরের জনগণের জন্য নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ফুটপাথ নির্মাণ, জেব্রা ক্রসিং অঙ্কনসহ অবকাঠামোগত উন্নতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আমাদের এই প্রচেষ্টায় সকলের সমর্থন এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষত, সড়ক ব্যবহারে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে, ট্র্যাফিক নিয়ম মেনে চলতে হবে। পথচারী, সাইকেল চালক, রিকশাসহ সকল পরিবহনের যাত্রী ও চালকদের জন্য সড়ক নিরাপদ হোক। আসুন আমরা দায়িত্বের সঙ্গে গাড়ি চালাই। সড়ককে নিরাপদ হিসাবে গড়ে তুলি।’

এ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা। এতে আলোচনায় অংশ নেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এর পরিচালক (সড়ক নিরাপত্তা) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব এস এম মেহেদী হাসান, ডিএনসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী ব্রি.জে. মু. আমিনুল ইসলাম, একসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সহকারী অধ্যাপক ড. আর্মানা সাবিহা হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) এর সিনিয়র রোড সেফটি স্পেশালিস্ট জনাব মোঃ মামুনুর রহমান, গ্লোবাল হেলথ এডভোকেসি ইনকিউবেটর -এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ড. মো. শরিফুল আলম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ-এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) আবদুর রশিদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে দিবসের গুরুত্ব তুলে প্রেজেন্টেশান উপস্থাপন করেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর টেকনিক্যাল এডভাইজর – রোড সেফটি আমিনুল ইসলাম সুজন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিআইজিআরএস এর সমন্বয়কারী আবদুল ওয়াদুদ।

অনুষ্ঠানে দু’জন ভিকটিম তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন যারা সড়কে তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যথাক্রমে এডভোকেট ইতি রানী সাহা, তিনি সড়কে তার স্বামী হারিয়েছেন এবং সাংবাদিক নিখিল ভদ্র, যিনি দুটি পা হারিয়ে কৃত্রিম পায়ে নির্ভর করে জীবনযাপন করছেন।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ

স্বত্ব © ২০২৩ সকালের খবর ২৪