মানুষের চেয়েও অদৃশ্য করোনা শক্তিময়

ভয়ানক করোনা মহামারীতে জর্জরিত সারা বিশ্বের মানুষের মতো আজ বাংলাদেশের মানুষের জীবন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের উন্নত-অনুন্নত- উন্নয়নশীল সব রাষ্ট্র যেন আজ অদৃশ্য এক পরজীবির আক্রমণে করুণ অবস্থা। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস তার ভয়াবহতা দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে পুরো বিশ্ব জুড়েই। ১৯ মাস জুড়ে করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে দেশ আজ লন্ডভন্ড। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের উহান প্রদেশে এই ভাইরাসের সর্বপ্রথম উৎপত্তি ও শনাক্ত হলেও খুব দ্রুত সময়ে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে অর্থাৎ ২০২০ সালের ১১ই মার্চ রোগটিকে বৈশ্বিক মহামারী হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পরিসংখ্যানে দেখা গেছে,করোনা ভাইরাস ২০২০ সালের এপ্রিলের মধ্যে ১৯০ টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আর আমাদের বাংলাদেশও এই মহামারী থেকে রেহাই পায়নি। ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী বা কোভিড-১৯ পজেটিভ শনাক্ত হয়। প্রথমদিকে সংক্রমণের হার কম থাকলেও পর্যায় ক্রমে তা বাড়তে থাকে,বাড়তে থাকে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যাও। মহামারির প্রকোপ এড়াতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম বারের মতো সরকার সাধারণ ছুটি ও লকডাউন ঘোষণা করেছিলো। পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় তা দফায় দফায় বাড়ানো হয়। আর স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রেও ছিল কড়াকড়ি।দীর্ঘদিন লকডাউনের ফলে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিপর্যস্ততা কমিয়ে আনতে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতবছর পহেলা জুন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত সীমিত পরিসরে সব প্রতিষ্ঠান চালু রাখে।

২০২০ সালের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারিতে সংক্রমণের হার নিম্নমুখী ছিল। ফের গত মার্চের শেষের দিক থেকে করোনা মহামারী আমাদের দেশে পূর্বের চেয়ে আরো অধিক আগ্রাসী হয়ে উঠে। এতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অনেক বেশী দেখা দেয় এদিকে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি খামখেয়ালিপনার জন্য বর্তমানে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে যা আগের চেয়েও বেশি মারাত্মক। বাংলাদেশ আজ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শিকার হয়েছে। করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ সংক্রমণের হার আশংঙ্কাজনকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। প্রতিদিন সনাক্ত রোগীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এদিকে বাংলাদেশে এ বছরের শুরুতে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের হাতিয়ার হিসাবে কোভিড ১৯ প্রতিরোধী ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল যার আনুষ্ঠানিক যাত্রা ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে। ভারতের সাথে চুক্তি করে প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে ছয় মাসে ৩ কোটি ডোজ পাওয়ার কথা বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৫৪ লাখ মানুষ ঠিকা পেয়েছে আর ইচ্ছুক ৬৮ লাখেরও বেশী মানুষ ঠিকা নিতে পারেনি। এর পর চীন টিকা দিয়েছে,যার প্রয়োগও শিক্ষার্থীদের দিয়ে শুরু হয়েছে এবং এটিকা পর্যায়ক্রমে কারা পাবেন সে বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন শুধু মাত্র ভ্যাকসিন গ্রহন করে সম্পূর্ণ করোনা নির্মূল হবে এমনটি নয়। তাই ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও করোনার প্রকোপ এড়াতে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশের চারদিকের তিনভাগই ভারত। সে হিসাবে বাংলাদেশকে ঘর বিবেচনা করা হলে ভারতকে বলা হয় পাশ্ববর্তী কিংবা পাশের ঘর। তাই ভারতে করোনার এই করুন পরিনতি বাতাসের মতো বাংলাদেশে প্রবেশ করে ভয়ংকরে রুপ নিয়েছে। এদিকে করোনা বিগত দিনের তুলনায় বর্তমানে দেশে ভয়াবহ রুপ নেওয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বাড়ায় হাইফ্লো,নেজাল ক্যানুলা, ভেন্টিলেটর ও আইসিইউর চাহিদা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় অক্সিজেনের চাহিদাও বহুগুণ বেড়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে ২০% অক্সিজেন ভারত থেকেই আসে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে হাসপাতালে বেডসহ মেডিকেল অক্সিজেনের সংকট দেখা দিয়েছে। এর থেকে অনুমেয় বাংলাদেশের অবস্থা যদি ভারতের ন্যায় হয় তখন দেশের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা কেবল কল্পনাতীত। এখন বাংলাদেশে কোভিড বিপর্যয়ে করোনা টেস্টিং ও কিটের স্বল্পতা সহ করোনা চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বেসামাল করোনা পরিস্থিতি এতই ঊর্ধ্বমুখী ও ভয়াবহতার জন্য শঙ্কিত ছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ভারতের ভয়াবহতার ঢেউ এসে লাগে বাংলাদেশে। বর্তমানে বাংলাদেশের ভয়াবহ অবস্থা আশাঙ্কাজনক । অন্যদিকে ইতোমধ্যে আমাদের দেশে রাজধানী সহ সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে আইসোলেশন বেড,নরমাল বেড ও অক্সিজেন সরবরাহের সংকট দেখা দিয়েছে। কোভিড ১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বেশী বৃদ্ধি পাওয়ায় মহাখালীতে স্থপিত হয়েছে অস্থায়ী হাসপাতাল আর চট্টগ্রামে স্থপিত হয়েছে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল। আবার অনেকে হাসপাতালে বেড না পেয়ে ঘরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রতিদিন সারা দেশের প্রতিটি হাসপাতালে করোনা রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেডের অভাবে হাসপাতালের বারান্দা ও ফ্লোরে অবস্থান নিচ্ছে রোগিরা। করোনা রোগির সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা প্রদানে হিমসিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা। আর অক্সিজেন পাওয়াও দুষ্কর হয়ে উঠেছে।

করোনা ভাইরাসের গণসংক্রমণ বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবলভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার গত ৭ এপ্রিল থেকে লকডাউন ও দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে। পরে অফিস আদালতসহ দুরপাল্লার পরিবহন আবার চালু করলে পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে চলে যায়। এতে পরিস্থিতির সার্বিক বিবেচনায় দফায় দফায় লকডাউন বাড়ানো হলেও পরিস্থিতি আরো ভয়ানক হওয়ায় ১ জুলাই থেকে সারাদেশে ঔষধ ও কাঁচা বাজারসহ খাদ্যের দোকান গুলো ৫টা পর্যন্ত খোলা রেখে একযোগে পরিবহনসহ সরকারি,বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত সকল প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত,দোকানপাট,শপিংমল,হোটেল-রেস্তোরা বন্ধ ঘোষনা করে কঠিন লকডাউন দিয়েছে সরকার। এমনকি বিনা প্রয়োজনে মানুষকে বাসা-বাড়ী থেকে বের হতে নিষেধাজ্ঞা জারী করে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি মাঠে নিয়োজিত রেখেছেন। তাদের সাথে মাঠে আছেন পৃথক-পৃথক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। এখন আমাদের দেশে চিকিৎসা সেবায় আইসিউ সহ চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে আর এ পরিস্থিতির শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আগাম বলা যাচ্ছে না। শুধু মাত্র গণপরিবহন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেই লকডাউন ঘোষণার মাধ্যমে করোনার ভয়াবহ প্রকোপ এড়ানো কখনও সম্ভব নয়,বিধায় সবকিছু বিবেচনা করে সরকার কঠোর লকডাউন দিতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন করোনা প্রতিরোধে সর্বনিম্ন ৩ হাত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে যা আমাদের দেশে মেনে চলার কোন চিহ্নও নেই। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদপত্র ও মিডিয়ায় প্রকাশিত দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধিহীন যে জনসমাগমের ছবি দেখা গেছে তা দেশে করোনা পরিস্থিতি বেসামল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ছিল একটি নমুনা। অন্যদিকে ভারত নিজেদের দেশে অক্সিজেন সরবরাহে সংকট পরিস্থিতির স্বীকার হওয়ায় ভারতের বেশ কয়েকটি প্রদেশ নিজেদের প্রদেশ ও দেশের বাইরে অক্সিজেন রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। যার কারণে অনাগত দিনে করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা দিল্লির মতো নাজুক পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বললেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষেরা স্বাস্থ্যবিধি তথা মাস্ক পরিধান, হ্যান্ড গ্লাভস, স্যানিটাইজার ব্যবহার,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা,ঘন ঘন হাত ধোঁয়া ও প্রয়োজন ব্যতীত বাইরে যাওয়া কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছে না।বরং পূর্বের চেয়েও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি আরো অনীহা ও বেখেয়ালিপনা দেখা দিয়েছে। আর বিভিন্ন জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি প্রশাসনের কড়াকড়ি ও জোর সচেতনতাও কমে গেছে। ফল স্বরুপ ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা।এভাবে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা যদি চলমান থাকে বাংলাদেশকে বরণ করে নিতে হবে দিল্লির মতো লাশের নগরীর করুন পরিনতি। আমরা মানুষ হিসাবে নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সচেতন হতে পারিনি। বর্তমানে দেশের করোনা পরিস্থিতি দিল্লির মতো নাজুক না হলেও ভারতে সনাক্ত হওয়া কোভিড ১৯ এর নিত্য নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলো যদি কোন ভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করে তাহলে দেশের অবস্থা কতোটা ভয়াবহ হবে তা অনুমান করাই যায়। আর মেডিকেল অক্সিজেন লিন্ডের দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেলে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে পারে বাংলাদেশ। ভারতের আগে শীর্ষ করোনা আক্রান্ত ও মৃতুর রেকর্ড গড়া দেশ ইতালির পাশ্ববর্তী দেশ স্পেন,স্পেন তথা ফ্রান্সের পাশ্ববর্তী দেশ ইংল্যান্ড এবং আমেরিকার পাশ্ববর্তী দেশ মেক্সিকো প্রভৃতি কোভিড আক্রান্ত দেশের পাশ্ববর্তী দেশ গুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণে সেখানকার মৃত মানুষের শেষকৃত্য করতে হিমশিম খেতে হয়েছে। কোভিড ১৯ এর সঙ্গে মানুষের লড়াই চলছে ১৯ মাস জুড়ে। সেখানে মানুষের চেয়েও অদৃশ্য করোনা শক্তিময়। কোভিড ১৯ এখনও পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়নি বরং এটি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই আমাদেরকে করোনার তীব্রতা কমাতে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে,সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে মারাত্মক ছোঁয়াছে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার হার অনেকাংশে কমানো যায়। সব সময় মাস্ক পরিধান করতে হবে,জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে,বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করতে হবে, স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে,ফলমূল ও খাবার সব সময় জীবানু মুক্ত করে খেতে হবে। নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে আশপাশে পরিষ্কার রাখতে হবে। পরিবারের বৃদ্ধ ও শিশুদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। শপিংমল না গিয়ে প্রয়োজনে অনলাইনে কেনাকাটা করতে হবে। ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পাশাপাশি জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এছাড়াও পরিসংখ্যান বলছে গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরাঞ্চলে করোনার আক্রমণ বেশী তাই শহরাঞ্চলের মানুষদের জোর সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

সর্বোপরি সবাইকে অবশ্যই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হবে কেননা করোনা প্রতিরোধে ব্যক্তিসচেতনতার বিকল্প নেই। জনসাধারণের মাঝে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাতে প্রশাসনেরও বিশেষ জোর দেওয়া অব্যাহত রাখতে হবে। সরকার তথা প্রশাসন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের কম পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষকে ঠিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। একইভাবে বর্তমান ভারতের পরিস্থিতি বিবেচনা করে জনকল্যাণমুখী যুগোপযোগী সিদ্ধান্তগ্রহণ করে ও মেডিকেল অক্সিজেনের পর্যাপ্ত মজুদ সহ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো কার্যকরী উদ্যোগ নিয়ে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করতে হবে। তাহলে বেঁচে যাবে অনেক প্রাণ, দিল্লির মতো স্বজন হারানোর বেদনায় ভারী হবে না বাংলার আকাশ। চলুন সবাই করোনা মহামারী প্রতিরোধে নিজেদের ও দেশের কল্যাণে নিজে সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন হতে উৎসাহিত করি। তাহলে করোনার ভয়াবহতার ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবো আমরা ও আমাদের দেশ। লেখকঃ এম.দুলাল উদ্দিন আহমেদ,সাংবাদিক।