জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রক্ত দিয়ে রোগীদের সেবা করতে চান রায়হান উদ্দিন

11

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টারঃ-

২১ বছর বয়সেই রক্তের ফেরিওয়ালা হয়ে উঠেছেন
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের রাঘবপুর পুলেরহাট গ্রামের মিজানুর রহমান ও মিনা বেগম দম্পতির সন্তান মোঃ রায়হান উদ্দিন

পড়াশোনা করেছেন ঢাকার দনিয়া কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান
বিভাগের প্রথম বর্ষে, পড়াশোনার পাশাপাশি মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন অনবরত। রক্ত দেওয়া ও সংগ্রহের নেশায় ছুটে চলেছেন শহর কিংবা গ্রামে। কখনো নিজে রক্ত দেন, আবার কখনো রক্তদাতা নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতালে।

রায়হান উদ্দিন নিজ এলাকায় এক নজির সৃষ্টি করেছেন। কয়েক বছর আগেও রক্তের প্রয়োজনে এলাকাবাসী দ্বারস্থ হতেন পেশাদার রক্তদাতাদের কাছে। মূল্য পরিশোধ করে রক্ত সংগ্রহ করতেন। বেশি বিপাকে পড়ত গরিব-দুস্থরা। রায়হান উদ্দিন এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এখন বিনামূল্যে এবং সহজেই রক্ত পাচ্ছে তারা,হাসি ফুটছে অনেকের মুখে।

একসময় রক্ত দিতে ভয় পেতেন রায়হান উদ্দিন । কেউ রক্ত দেওয়ার কথা বললে নানা অজুুহাতে এড়িয়ে যেতেন। কিন্তু প্রথমবার রক্ত দেওয়ার পর ভালো লাগা শুরু হয় তার। অসহায় পরিবারের মুখে অমলিন হাসি দেখে রক্ত দিতে উদ্বুদ্ধ হন। ২০১৯ সালের শেষের দিকে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঘারপাড়া ব্লাড ব্যাংকে
যোগ দেন রায়হান উদ্দিন । কর্মদক্ষতার ফলে কিছুদিনের মধ্যেই বাঘারপাড়া ব্লাড ব্যাংক এর মডারেটরের দায়িত্ব পান। তখন থেকেই পুরোদমে কাজ করে চলেছেন। এখন এক ব্যাগ রক্তের জন্য মুঠোফোনে এক কলই যথেষ্ট।

রক্তে মাংসে গড়া দেহে থাকিতে মোদের প্রাণ,
একবার নয় বার বার মোরা করিব রক্তদান, এই মূলমন্ত্র হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন রায়হান উদ্দিন ।বাঘারপাড়া ব্লাড ব্যাংক সংগঠনের সদস্যদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার পাঁচশত লোকের রক্ত সংগ্রহ করেছেন। নিজে রক্ত দিয়েছেন ৪ বার। অনেক সহপাঠীরাই এখন তাকে রক্তবালক রায়হান বলেই সম্বোধন করে থাকেন।

রক্তদান ছাড়াও ওই সংগঠনের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রচারণাসহ নানা সামাজিক কাজ করে চলেছেন। কারও রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়ার পর রক্তগ্রহীতার ভালোবাসা আর হাসি তার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অ্যাওয়ার্ড মনে হয়। ফিরে পান নতুন উদ্যম। নিজেকে কল্পনা করেন সবচেয়ে সুখী এবং সার্থক মানুষের তালিকায়।জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রক্ত নিয়ে কাজ করতে চান রায়হান উদ্দিন,

রায়হান উদ্দিন বলেন,আমাদের সমাজে অসংখ্য অভাবগ্রস্ত মানুষ রয়েছে। যাদের টাকা দিয়ে রক্ত কেনার সামর্থ্য নেই। এছাড়া সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে সঠিকসময় রক্ত জোগাড় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আমাদের আশেপাশের অনেকে নিজের রক্তের গ্রুপ পর্যন্ত জানে না। রক্তদান ও সংগ্রহ করে মানুষের জীবন বাঁচানোতেই আমার তৃপ্তি। আমার সামান্য কষ্টে অসহায়দের মুখে হাসি ফোটে। এই হাসিই আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অ্যাওয়ার্ড। যতদিন বেঁচে থাকি মানুষের সেবায় এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।

বাঘারপাড়া ব্লাড ব্যাংক এর নিয়মিত রক্তদাতা,মোহাম্মদ নাঈম হাসান বলেন,রায়হান উদ্দিন নিয়মিত রক্তদাতা,রক্ত প্রয়োজন, এমন কথা শুনলে সে অস্থির হয়ে যায় রক্ত যোগাড় করে দিতে।সে পরিবারের খুব পরিশ্রমী ছেলে,বিভিন্নভাবে দক্ষতা ও সফলতা দেখিয়েছেন, মিষ্টভাষী ও ভদ্র। নিজ এলাকায় তাকে সবাই খুব পছন্দ করে। অন্যকে সাহায্য করতে কখনো দ্বিতীয়বার চিন্তা করেন না। শুধু নিজের শরীর থেকে রক্ত দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, অন্যের জীবন বাঁচাতে রক্ত সংগ্রহও করে দেন রায়হান উদ্দিন ।

এ পর্যন্ত কয়েক হাজার নারী-পুরুষকে রক্ত দিয়ে সহায়তা করেছে। যশোর ছাড়াও ফেসবুক ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঢাকা, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রক্ত জোগাড় করে দিয়েছে বাঘারপাড়া ব্লাড ব্যাংক সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়া গ্রামে গ্রামে বিনা মূল্যে ব্লাড ক্যাম্পেইন করেও মানুষের মধ্যে রক্তদানের উৎসাহ তৈরি করা হয়। এখন গড়ে প্রতিদিন ২/৩ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দিতে হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন...