ঘরবন্দী এক অন্যরকম ঈদ” আনন্দ কেড়ে নিয়েছে ভাইরাস

স্টাফ রিপোর্টার :এবার সকলে মিলিয়া মিশিয়া হাতে হাত কাঁধে কাঁধ রাখিয়া করিব ভোজন, গাহিব গান; পাড়ার আর্ত, পীড়িত, নিঃস্ব, তুচ্ছ সবাইকে ডাকিয়া আনিব
আর দু’হাতে করিব দান- সাইদুর রহমানের এই কথাটি যেন আজকের পৃথিবীতে দূর্লভ। ঈদ মানে খুশি, নতুন জামা কাপড় আর বাহারি রঙের শাড়ি, চুড়ি। আনন্দ, উৎসবে, হাতে-হাত, কাঁধে কাঁধ মিলেয়ে সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় ভাব ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে ঈদ আনন্দ কিন্তু এই খুশিতে বাঁধা পরেছে করোনা নামক ভাইরাস আজ সারা বিশ্বের মানুষের আনন্দ কেড়ে নিয়ে কপাঁলে ফেলেছে চিন্তার ভাজ। এ হলো এমন এক অচেনা পৃথিবী যা মানবজাতি আগে কখনো দেখেনি স্বজন নিয়েছে, প্রিয় মানুষ হারিয়েছি সাথে কেড়ে নিয়েছে মনের সবটুকু রঙ, আনন্দ, উৎসব বাকি আছে প্রাণ। করোনা নামক ভাইরাসের ছোবল থেকে বাঁচার আশাটুকুই এখন সম্বল।এমন তো ছিলো না পৃথিবী তবে কেন আজ এমন নিষ্ঠুর? এই তো কিছু দিন আগের কথা ঈদের আনন্দ পুরো পৃথিবীর পাড়া মহল্লা, অলি গলি মেতে উঠতো উৎসবের আমেজে,ছোট, বড়, বন্ধু, স্বজন এমনকি পরিবারের প্রবীণ মানুষটিও উৎসব আনন্দে অংশ নিত। ঈদের চাঁদ রাত যেন এক মহাখুশির এবং ব্যস্ততার রাত পরিবারের মেয়েটি সবার হাত রাঙাতে ব্যস্ত কার আগে কে দিবে মেহেদী এই নিয়ে লেগে যায় টানাটানি তবে সবাইকে পরাজিত করে পরিবারের ছোট্ট সদস্যটির হাত মেহেদী রঙে সেজে উঠে সবার আগে । ঐদিকে ঈদের সকালে কি আয়োজন হবে তাই নিয়ে পরিকল্পনায় ব্যস্ত ঘরের গৃহিনীরা কর্তা বাবুরা তাদের সহযোগী।
রাত পেরিয়ে ভোর হয় ঈদের সকাল শুরু হয় ছোটদের আনন্দ তখন যেন বহুগুণে বেড়ে যায় কখন নতুন জামা কাপড় পড়বে সবাইকে সালাম করে সালামি নিবে তাই গোসলখানায় যেন তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। সবাই ঈদের নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ওদিকে গৃহিণীরা ব্যস্ত সেমাই, পায়েস, নুডলস সহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারের আয়োজনে এই দৃশ্য যেন বাঙালি জাতির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। দূর থেকে ভেসে আসছে মসজিদের মাইকের আওয়াজ আহ্বান করা হচ্ছে নামাজের জন্য পরিবারের পুরুষ সদস্যদের এখন নতুন পাঞ্জাবি , নতুন জামা পড়ার পালা নামাজে যেতে হবে তাই। ঈদের নামাজ যেন পরিনত হয় মিলনমেলায় পরিচিত -অপরিচিত কত মুখ সবার ঠোঁটে হাসি এ যেন এক অন্যরকম দৃশ্য, নামাজ শেষে বদলে যায় দৃশ্যপট কোলাকুলি, হাত মুসাফা, খোশগল্প এ যেন এক আত্মার সম্পৃক্ততার গল্প। তারপর শুরু হয় এপাড়া থেকে ও পাড়া গরু কোরবানি করার কাজ,সবাই মিলে গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এ প্রস্তুতি যেন কসাই হওয়ার প্রস্তুতি। গরু জবাই, মাংস কাটা,মাংস বিলানো ঐ দিকে মহিলারা মাংস রান্নার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তৈরি হচ্ছে পিঠা দুপুরের খাবারে থাকছে মাংসের ঝোলের সঙ্গে রুটি পিঠার আয়োজন আত্মীয় স্বজনরা আসে তাদের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়া এরপরে ঘুরাঘুরি, আড্ডাবাজি এভাবেই কাটে পুরো দিন।ঈদমানে আমরা তো এসবই বুঝি আনন্দ উৎসব, হাসি, খুশি ঘোরাঘুরি নানা খাবারের আয়োজন কিন্তু এই চিত্র বদলে দিয়েছে ভাইরাসের ভয়াবহতা মানুষ আজ শঙ্কিত মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নাম । বাইরে বের হতে মানা থাকতে হবে ঘরে এই নিয়ম যখন চলছে পৃথিবীতে মানুষ হয়েছে পাখির খাঁচার মত ঘরবন্দী। ঈদ,আনন্দ- উৎসব, অনুষ্ঠান সব চলছে ঘরে ঘরে সবকিছু বদলে দিয়েছে ভাইরাস প্রযুক্তির কল্যাণে কিছুটা দুঃখ কমলেও কাছাকাছি যাওয়ার আকুলতা রয়েছে সবার মাঝে, এখন ডিজিটাল যুগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষ একত্রিত হচ্ছে অডিও বা ভিডিও কলে কথা বলছে,দেখা হচ্ছে ছবি তুলে কেউ কেউ সেই মুহুূর্ত গুলো বিভিন্ন সোস্যালমিডিয়ায় শেয়ার করে দিন পার করছে। ঈদের আনন্দ এখন মানুষের মতই ঘরবন্দী ঘরে বসেই নতুন জামা কাপড় কেনছে সবাই বাইরে নেই হৈ হুল্লোড় থমকে গেছে পৃথিবী। আমরা এমন আনন্দ চাই না, এমন আর একটি ঈদ ও না হোক, প্রভুর কাছে প্রার্থনা ভাইরাস থেকে বাঁচাও প্রাণ। পৃথিবী হয়ে উঠুক সুস্থ সুন্দর নিরাপদ আবাসস্থল যেখানে পাখিদের মত ঘূরে বেড়ানো যাবে তেপান্তরের মাঠে। পৃথিবী ফিরবে নতুন রূপে নতুন আশার আলো ছড়িয়ে সবাই আবার আমরা এক সঙ্গে মেতে উঠবো ঈদ আনন্দে এই প্রত্যাশা রেখে ‘ রুবাইয়া রাখীর ভাষায় বলতে চাই পৃথিবী সুস্থ হলে পুরোনো কবিতার খাতাটার ধুলা ঝাড়ব আঁকাবাঁকা অক্ষরগুলো স্পর্শ করে নতুন কিছু অক্ষর বুনব।যেখানে মুক্ত আকাশ আবার কথা বলবে স্পর্শ আর ভয়ের সঞ্চার করবে না। মুক্তোদানার মতো বৃষ্টিবেলায় অগোছালো বেশে আবার বেরিয়ে যাব অবগাহনে। তপ্ত দুপুরেও রোদ পোহানো চায়ের কাপে হাসির ফোয়ারা তুলবো।সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো, ‘ঈদ মোবারক’