

রাকিবুল হাসান, (ঝিনাইগাতী, শেরপুর) প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইগাতী উপজেলার সিংহভাগ লোক দরিদ্র নিম্ন আয়ের মানুষ। এ সমস্ত লোকের আয়ের উৎস কৃষি কাজ ও শ্রমজীবী অত্র উপজেলার চিকিৎসার একমাত্র ভরসা স্থল ঝিনাইগাতী সরকারি হাসপাতাল। প্রতিদিন শত শত দরিদ্র রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে প্রয়োজনীয় ঔষধ না পেয়ে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরে যায়। দীর্ঘদিন থেকে ঔষধ সংকট চলছে। বহির বিভাগে বতর্মানে প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন, আয়রন, ভিটামিন-বি, সিপ্রোসিন ও মেট্রো ট্যাবলেট পাওয়া যাচ্ছে। এই সমস্ত ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা চলছে।
সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় ঔষধ গ্যাস্ট্রিক জাতীয়, ডায়াবেটিসের, এন্টিবায়োটিক এই প্রয়োজনীয় ওষুধ গুলি সরকারি হাসপাতালে মিলছে না। আর আন্ত-বিভাগের অবস্থাও বেহাল, দরিদ্র রোগীদের ভর্তি হয়ে বাহির থেকে ঔষধ কিনে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অসহায় দরিদ্র রোগীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। অত্র উপজেলার ২ লক্ষ লোকের চিকিৎসা কেন্দ্র যদি এমন বেহাল দশা হয় তাহলে দরিদ্র ছিন্নমূল পরিবারের লোকেরা চিকিৎসা পাবে কোথায়? উল্লেখ্য উক্ত হাসপাতালটি ছিল ৩১ শয্যা বিশিষ্ট। গত তিন বছর পূর্বে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু লোকবল ও সেবার মান বাড়েনি। তাই এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। বেশিরভাগ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে মেডিকেল অফিসার পাওয়া যায় না। সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবায় দেখা মিলে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের। অনেক সময় জটিল রোগী/ঝুকিপূর্ণ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতেও তারা সাহস পায় না। যদি মেডিকেল অফিসার থাকে তাহলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভালো চিকিৎসার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। কাগজে কলমে মেডিকেল অফিসার আছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা মিলে না। নানা কারনে ঝিনাইগাতী হাসপাতালে চিকিৎসা অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি এই দরিদ্র উপজেলার চিকিৎসার একমাত্র ভরসার কেন্দ্র ঝিনাইগাতী উপজেলা সরকারি সদর হাসপাতালটি সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। প্রকাশ থাকে যে একজন মেডিকেল অফিসার শুধুমাত্র ভর্তি কৃত রোগীদের রাউন্ড দিয়ে যায়। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দরিদ্র উপজেলার ছিন্নমূল পরিবারের লোকেরা চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করে।