

জামালপুর প্রতিনিধিঃ
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) সংসদীয় আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ঘোষনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এতে তৃনমূলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ মত প্রার্থক্য চরমে। দুই গ্রুপে বিভক্ত জামায়াতের নেতাকর্মীরা।দলের এক পক্ষ কেন্দ্র ঘোষিত নমীনির পক্ষে।অপর পক্ষ স্থানীয় লোকের মধ্য থেকে শক্তিশালী প্রার্থী ঘোষনা করার দাবি।
দুপক্ষই নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য তৎপর। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। দুপক্ষই নিজেদের দাবি টিকিয়ে রাখতে জোর কদমে সামনে এগোচ্ছে । এলাকায় নানা কর্মসূচি পালন করছেন। সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজ নিজ দলের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।
এই আসনের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন- কেন্দ্র ঘোষিত নমিনী প্রার্থী জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা ও কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদী। তৃণমূলের কর্মীদের দাবি প্রার্থী পরিবর্তন করে দলের গ্রহণযোগ্য, পরীক্ষিত এবং জনপ্রিয় নেতা অধ্যাপক হারুনুর রশীদ কে প্রার্থী ঘোষনা করা।
হাজরাবাড়ি পৌর জামায়াতের সাবেক সভাপতি মাওলানা ফারুক হোসাইন বলেন,সাম্প্রতিক সময়ে মেলান্দহে আমরা দুজন প্রার্থীর পোষ্টার দেখেছি।সিদ্ধান্ত কি হয় সেটা সময় বলে দিবে। তিনি চান একজন গ্রহনযোগ্য প্রার্থী এ আসনে দেওয়া হোক।মেলান্দহ উপজেলা শিবিরের সাবেক এক নেতা বলেন,আযাদী সাহেবের বাড়ি বরিশালে।চাকরিসূত্রে মেলান্দহে থাকেন।বিয়ে করেছেন আওয়ামী পরিবারে।মেয়ে বিয়ে দিছেন ছাত্রলীগ নেতার নিকট।পরিবারের ভোটই পাবেন না।তাহলে নির্বাচন করবেন কেমনে?
মেলান্দহ পৌর যুব জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম বলেন,আযাদী সাহেব একজন জনসমর্থনহীন লোক।তিনি সংসদ সদস্য প্রার্থী তার বাসার পাশের লোকই জানেনা।তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হলে জামানত হারাবেন।কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনিত করবে তারই নির্বাচন করবো।আমাদের প্রত্যাশা হলো একজন গ্রহনযোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া। উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন,দ্বন্ধ নিরসন চাই, যোগ্য ব্যক্তিকে এই আসনে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হোক ।
সাবেক মেলান্দহ উপজেলা শুরা ও কর্ম পরিষদ সদস্য ও নয়ানগর ইউনিয়নের সাবেক আমীর আল-আমিন বলেন, সকল দ্বন্ধ নিরসন করে একক শক্তিশালী যোগ্য প্রার্থী চাই।
যাতে এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হতে পারে।
সাবেক জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক হারুনুর রশীদ জানান,নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার নেই।বিভাজনের মাধ্যমে নির্বাচন করতে আমি চাইনা।এই আসনের প্রার্থী অবশ্যই মেলান্দহ – মাদারগঞ্জের বাসিন্দা হতে হবে এবং পৈতৃকসুত্রে ভোটার হতে হবে।এছাড়া কোন ব্যক্তির নির্বাচন আমরা করতে পারিনা। বিদেশি লোককে প্রার্থী করায় জামায়াতের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।তাকে প্রার্থী করা হলে প্রার্থীর জামানত টিকবেনা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুস জানান,যখন মতামত নেওয়া হয়েছে তখন তো মুজিবুর রহমান আজাদী কে সমর্থন দিয়েছে।অপেক্ষা করতেছি। এ বিষয়ে একটা ফয়সালা করা হবে।