হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেতশিল্প

19

মিজানুর রহমান মিজান, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
মেলামাইন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর ভারে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে দিনাজপুর জেলার বিরামপুরের বাঁশ ও বেতশিল্প। এক সময় গ্রামীণ জনপদে মানুষ বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ব্যবহার করলেও এখন হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্পটি। সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে চিরচেনা চিত্র।

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার চাঁদপুর, মির্জাপুর, মুকুন্দপুর, বিশ্বনাথপুর ও কেটরাহাটসহ কয়েকটি গ্রামে মাহালী পরিবার জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাঁশ আর বেতের শিল্পকে কোনো রকমে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।

জানা যায়, মেলামাইন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর কদর দিন-দিন বেড়ে যাওয়ায় কুটির শিল্পের চাহিদা এখন আর নেই। তাছাড়াও দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে এ শিল্পের কাঁচামাল বাঁশ ও বেত। বাজারগুলো দখল করেছে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সামগ্রী। টেকসই ও স্বল্প মূল্যে পাওয়ায় সাধারণ মানুষের চোখ মেলামাইন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর উপর।

এক সময় দেশের বিস্তীর্ণ জনপদে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি হতো গৃহস্থালি ও শৌখিন পণ্য সামগ্রী। বাঁশ-বেত কেটে গৃহিণীরা তৈরি করতেন হরেক রকমের পণ্য। এসব পণ্য বিক্রি করেই চলত তাঁদের জীবন।

তাঁরা বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র যেমন, ডালি, মাছের খোলই, কুলা, মুরগী পালনের ঝাপা, খইচালা ঝুরি, মাছ ধরা ডেরই, বাঁশের হারিকেন, পশুর হাত থেকে গাছ রক্ষাকারী খাঁচা, হাত পাখা, বাঁশি ইত্যাদি তৈরি করে উপজেলা বিভিন্ন হাট বাজার ছাড়াও অন্যান্য উপজেলার হাট বাজারে খুচরা ও পাইকারী দরে বিক্রি করে বেশ স্বাচ্ছন্দে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন।

এখনোও গ্রামীণ উৎসব ও মেলাগুলোতে বাঁশ ও বেতের শিল্পীদের তৈরি খাল, চাটাই, খালুই, ধামা, টোনা, পাল্লা, মোড়া, বুক শেলফ কদাচিৎ চোখে পড়ে। তবে যতই দিন যাচ্ছে ততই কমে যাচ্ছে এই হস্ত শিল্পের চাহিদা।

মির্জাপুর গ্রামের সুনিরাম পাহান বলেন, আগে একটি বাঁশের মূল্য ছিল ১৫-২০ টাকা। প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস পত্রে বাজার দখল হয়ে গেছে। বর্তমানে বাঁশের তৈরী জিনিসের তেমন কদর নেই। বর্তমানে একটি বাঁশ ২০০ টাকা থেকে ২২০ বর্তমানে একটি বাঁশ ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় ক্রয় করে সেই বাঁশ থেকে বাতা বের করে যে টাকা আয় হয় তাতে আমাদের শ্রমের টাকাই আসে না। আমরা শুধু বংশ পরমপরা রক্ষায় এ পেশা ধরে রেখেছি। আমাদের মধ্যে অনেকেই দারিদ্রতার কারণে অন্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বাঁশ-বেত শিল্পের দু’র্দিনে হাতে গোনা কিছু পরিবার এই শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছে। অনেকে এ পেশা বদলে অন্য পেশায় চলে গেছে। কয়েকটি পরিবার কোনো রকমে বাপ-দাদার এই পেশা ধরে রেখেছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন...