বঙ্গবন্ধু ও তার স্ব-পরিবারের খুনের মাস্টার মাইন্ড ছিলেন জিয়াউর রহমান : ডা. মুরাদ হাসান

0

স্টাফ রিপোর্টার:

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি বলেছেন, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। সাংবাদিক ভাইয়েরা করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় অনেকের মতো বিশেষ অবদান রাখছেন।

এজন্য বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সাংবাদিকদের নিয়ে ভাবনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে দেশব্যাপী সাংবাদিকদের মাঝে প্রণোদনার চেক হস্তান্তর কার্যক্রম চলছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২০ আগস্ট) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসন ও শেরপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে সাংবাদিকদের মাঝে প্রণোদনার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর স্ব-পরিবারের খুনের মাস্টার মাইন্ড (মূল নায়ক) ছিলেন জিয়াউর রহমান। এই জঘন্যতম হত্যাকান্ডের পরে খুনিদের বাঁচাতে তৎকালীন সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নামে এক কালো আইন করে। এই আইন পাশের দীর্ঘ্য ২১ বছর পর শেখ হাসিনা’র সরকার ওই কালো আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের পথ সুগম করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর স্ব-পরিবারে খুনের সাথে সরাসরি জড়িতদের ফাঁসি হলেও নেপথ্যর নায়ক জিয়াউর রহমানের মুখোশ আজও উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানার স্বার্থে খুনি জিয়াউর রহমানের মুখোশ উন্মোচন করা এখন সময়ের দাবী বলে তিনি মন্তব্য করেন। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডা. মুরাদ হাসান এমপি তাঁর বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর স্ব-পরিবারের খুনের মাস্টার মাইন্ড (মূল নায়ক) খুনি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবী করেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ মোমিনুর রশীদ-এঁর সভাপতিত্বে ও শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আতিউর রহমান আতিক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেরপুর পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী, শেরপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন, শেরপুর প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ শরিফুর রহমান।

পরে জেলায় কর্মরত ৪৬ জন সাংবাদিকের মাঝে প্রতিজনে ১০ হাজার টাকা সমমূল্যের চেক হস্তান্তর করা হয়। এসময় শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ বিভাগের সদস্য, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, ছাত্রলীগ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আগে শেরপুর সার্কিট হাউজে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি সাংবাদিকদের জানান, দেশে বর্তমানে কোন আইপি টিভির অনুমোদন নেই। অনুমোদনহীন ও অবৈধ আইপি টিভির বিরুদ্ধে সরকার অচিরেই ব্যবস্থা নেবে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয়ে ৭০০ আইপি টিভির আবেদন জমা পড়েছে। জমাকৃত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এছাড়া অনলাইন নিউজ পোর্টালের অনুমোদন কার্যক্রম চলমান আছে। এরইমধ্যে বেশ কিছু পোর্টালের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে, বাকীগুলো পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

এসময় জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপি, জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ, পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি, প্রেসক্লাব সভাপতি শরিফুর রহমান, সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিনসহ দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •