বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ মহানায়কের আগমনে পূর্ণতা পায় স্বাধীনতা

13

মোঃআল আমিন,গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
লন্ডনের হোটেল ‘ক্ল্যারিজস’। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ওইদিনই লন্ডনে পৌঁছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হোটেল লবিতে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমি যত দ্রুত দেশে ফিরতে চাই। আমার জনগণকে ছেড়ে আমি এক মুহূর্ত শান্তি পাচ্ছি না।’ মহান নেতার এ কথায় অভিভূত হয়ে পড়েন ব্রিটেনের সাংবাদিকরা। প্রায় দশ মাস পাকিস্তানের কারাগারে একাধিকবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা মহান পুরুষ মুক্তিলাভ করে আগে ভাবছেন তার দেশের জনগণের কথা। স্মরণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধে বাংলার জনগণের আত্মত্যাগের কথা। বিশ্বের সাংবাদিকদের জন্য অভিভূত হওয়ার মতো বিশাল ঘটনা তখনো অপেক্ষা করছিল সামনে। দিল্লি হয়ে ঢাকা ফেরার পথে ভারতের জনগণ যে রাজকীয় সংবর্ধনা দিয়েছিল বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে, তাতে মুগ্ধ হয়েছিল সারা বিশ্বের মানুষ।

২৫ মার্চ রাতে পাক বাহিনীর হাতে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হলেন। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ শেষে বিজয় অর্জন করল বাঙালি। কিন্তু বিজয়ের সে আনন্দ যেন অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছিল। যে মহামানবকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে মুক্ত করে আনতে ’৬৯-এ বাংলার মানুষ সেনাবাহিনীর ব্যারিকেড ভাঙার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠেছিল, যে মহানায়ক ’৭১-এর ৭ মার্চ চূড়ান্ত সংগ্রামের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে জনতাকে উজ্জীবিত করলেন, তার অনুপস্থিতিতে বাংলার মানুষ বিজয়ের পূর্ণাঙ্গ আনন্দ পাচ্ছিল না। যুদ্ধকালীন নয় মাস বাংলার ঘরে ঘরে নির্যাতিত মানুষ প্রার্থনা করেছে বঙ্গবন্ধুর জন্য। বিজয় অর্জনের পর ২৫ দিন আশঙ্কার দোলাচলে দুলেছে মানুষ। অবশেষে জানা গেল বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন। দেশে আসছেন। সে সংবাদ পাওয়ার পর গোটা দেশে কী পরিমাণ আনন্দের জোয়ার বয়ে গিয়েছিল তা প্রত্যক্ষদর্শী ছাড়া আর কেউ অনুভব করতে পারবে না।

জানুয়ারির ৮ তারিখে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হন। রাওয়ালপিন্ডি বিমানবন্দর থেকে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারওয়েজের ৬৩৫নং ফ্লাইটটি লন্ডনে পৌঁছালে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র এবং কমনওয়েলথ অফিসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় ব্রিটেন প্রবাসী বাঙালিদের গগনবিদারী ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে বিমানবন্দর।

লন্ডনে বঙ্গবন্ধু হোটেল ‘ক্ল্যারিজস’এ ওঠেন। এখানে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। তার প্রতি সাংবাদিকদের প্রথম প্রশ্ন ছিল, তিনি কেন ঢাকা না গিয়ে প্রথমে ব্রিটেনে এসেছেন। জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় আসিনি। আমাকে লন্ডন পাঠানোর সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের। আমি তাদের বন্দি ছিলাম।’

নিউজটি শেয়ার করুন...