নোয়াখালীর খ্যাতিমান অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব  ড. ইনামুল হক আর নেই  

8

নাজমুল হোসেন  নোয়াখালী সদর উপজেলা প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের খ্যাতিমান নাট্যকার, অভিনেতা, লেখক ও শিক্ষক ড. ইনামুল হক আর নেই! উদীচীর সাবেক সহ-সভাপতি, বর্তমান উপদেষ্টা এবং চিরকুমার সভার নির্দেশক, নাট্যজন ড. ইনামুল হক গতকাল  বিকাল ৪টায় বেইলি রোডের নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার  ফেনীর সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে ১৯৪৩ সালের ৭ মার্চ জন্ম ইনামুল হকের। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

তার পর যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি শেষ করে ১৯৬৫ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রসায়ন বিভাগে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সময়ে দীর্ঘ ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নটরডেম কলেজে পড়ার সময়েই তিনি প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন। ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তখন তিনি ‘ভাড়াটে চাই ` নাটকে প্রথম অভিনয় করেন।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন আন্দোলনমুখী নাটকে অংশ নেন ইনামুল হক। ১৯৭০ সালে আইয়ুব খানের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তৎকালীন অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন নাট্যচর্চাকে হাতিয়ার করে।দুর্দান্ত অভিনয়ের পাশাপাশি চমৎকার গল্পের নাটক লিখে গেছেন ড. ইনামুল হক। তাঁর লেখা আলোচিত টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সেইসব দিনগুলি’ (মুক্তিযুদ্ধের নাটক), ‘নির্জন সৈকতে’ ও ‘কে বা আপন কে বা পর’। ইনামুল হকের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে নির্জন সৈকতে, গৃহবাসী, মুক্তিযুদ্ধ নাটকসমগ্র।

ড. ইনামুল হক ২০১২ সালে  একুশে পদক এবং ২০১৭ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা বৃহওর নোয়াখালী বাসি তার  স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায়।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •