

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন-২০২৫-এর সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট নেওয়া হবে।মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম এক মতবিনিময় সভায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান এবং সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।এবারের জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৮৯৭ জন। এদের মধ্যে ১০টি ছাত্রী হল এবং ১১টি ছাত্র হলের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ২২৪টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে।প্রতিটি হলের জন্য একজন করে রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও, ৬৭ জন শিক্ষক পোলিং অফিসার এবং সমান সংখ্যক কর্মকর্তা সহায়ক পোলিং অফিসারের দায়িত্বে থাকবেন। হলের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আনসার ও নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়োজিত থাকবেন।
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া হবে ওএমআর ব্যালটের মাধ্যমে, যেখানে ভোটাররা টিক চিহ্ন দিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন। ভোট দেওয়ার নিয়মাবলী নিয়ে একটি ভিডিও নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও জনসংযোগ দপ্তরের ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে একটি বড় স্ক্রিন বসানো হবে, যেখান থেকে সব হলের ভোট পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।ভোটের দিন ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য ক্যাম্পাসের ১২টি গেট এবং নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন থাকবেন। এছাড়াও, দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন। যদিও সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
এবারের নির্বাচনে মোট ১৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন:ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে: ৯ জন,সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে: ৯ জন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে: ৬ জন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে: ১০ জন।নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারণা চালিয়েছেন। এখন সবার দৃষ্টি ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ভোটের দিকে, যা নির্ধারণ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী দিনের ছাত্র নেতৃত্ব।