

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডার বর্তমান দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর এবং গ্রাহক হয়রানির কারিগর বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৩, দিয়াবাড়ী উত্তরা,ঢাকা,মটরযান পরিদর্শক,লাভলু সিকদার,ঘুষ,দুর্নীতি,অনিয়ম,দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্রাহকদের হয়রানি করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তিনি নিজের নামে পিতা মাতা ও পরিবারের সদস্যদের নামে বেনামে। তদন্ত পূর্বক জরুরীভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন প্রসঙ্গে।
এসব বিষয়ের তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন সেগুনবাগিচা ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. জানে আলম নামের এক ব্যক্তি।
দুদকের অভিযোগ সূত্রে মো. লাভলু সিকদার, মটরযান পরিদর্শক,বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৩,দিয়াবাড়ী উত্তরা, ঢাকায় বর্তমানে কর্মরত আছেন। তিনি ঘুষ, দুর্নীতি, গ্রাহক হয়রানি, দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে বিআরটিএ দিয়াবাড়ী, উত্তরা ঢাকায় প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহন করে অধিকাংশ বিআরটিএ বিধি বহিভুত কাজ করে কোটি কোটি টাকার মালিক।
তার পিতা একজন গরিব কৃষক এবং তার মাতা একজন গৃহিনী হওয়া সত্বেও তাদের নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তার পিতার নাম-পাহালী সিকদার, মাতার নাম-নুর বানু, জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৫০৬৫৩৫৭১৩৮, জন্ম তারিখ: ০১/০১/১৯৯০ ইং, ঠিকানা: গ্রাম: মুশুরিয়াঘোনা, ডাকঘর: কুরনী, উপজেলা-মির্জাপুর, জেলা-টাঙ্গাইল। টিন নং-৮১১৭৯৫৪৩৬০৪৯, কর সার্কেল-০২০, মির্জাপুর, কর অঞ্চল-গাজীপুর। বর্তমানে বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল-৩, দিয়া বাড়ী উত্তরা, ঢাকায় মালিকানা বদলি ও ফিটনেস শাখায় কাজ করার সুবাদে তারা প্রতিদিন অবৈধ ভাবে দালাল এর মাধ্যমে মোটা অংকে টাকার বিনিময়ে ফিটনেস বিহীন গাড়ীগুলোকে ফিটনেস দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তার সঙ্গে জড়িত তার দালাল চক্রের হোতা হযরত-০১৮৬১০৯৮৮০৬, দালাল সানি-০১৭১৯৬৪১২৫৭, দালাল মতি-০১৯৭২২২২৭৫৮, দালাল সুমন-০১৯৫৯৮৫১২৫১, দালাল তুহিন-০১৮৩৩৪৩৩৮০, দালাল সহিদুল-০১৯৩০০৭৭২৯৯, দালাল মাসুদ-০১৮৬৭৭৬৫২৬০, দালাল খোকন-০১৭৩৬৮৭৮৪১০, দালাল জনি, দালাল সামিম, দালাল রেজাউল, দালাল গনি, দালাল ইমরান, দালাল তৌফিক, দালাল লোকমান, দালাল কবির-০১৮৪২০২৮৯৯৩, এছাড়াও আরো কয়েক ডজন দালালের মাধ্যমে প্রতিদিন ফিটনেস বিহিন গাড়ী ও ভাংঙ্গাচুড়া ফিটনেস দিয়ে থাকেন। গত ১৫/০১/২০২৫ইং তারিখের ফিটনেস বিহীন গাড়ীগুলোর নাম্বার তুলে ধরা হলোঃ ঢাকা মেট্রো-চ-১৬-৩৭৯৪, ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৫১৬০, ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-২০৯৬, ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৬৫৫১, ঢাকা মেট্রো-জ-১১-০৩৩৩, ঢাকা মেট্রো-খ-১২-৫১৭৭, ঢাকা মেট্রো-ম-১১-১৭৭৮, ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-২০৮৩, ঢাকা মেট্রো-ব-১১-২১০১, ঢাকা মেট্রো-চ-১৬-০৪১২, ঢাকা মেট্রো-চ-১৬-০৪৮৪, ঢাকা মেট্রো-ম-১৪-০৪৮৮, ঢাকা মেট্রো-খ-১১-১১৮২, ঢাকা মেট্রো-ট-১৫-১৭৯৫, ঢাকা মেট্রো-চ-১৬-০৪৭৫, ঢাকা মেট্রো-খ-১৩-৩৫৫৭, ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-৬৪৪৩, ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-২৮৮০,
ঢাকা মেট্রো-ব-১১-১৭৩১, ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-৪২৩০, ঢাকা মেট্রো-চ-১১-২৫২২, ঢাকা মেট্রো-ম-১১-১৩৪৬, ঢাকা মেট্রো-ম-১১-৬২৮৮, ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-৮৩৮৪, ঢাকা মেট্রো-ম-১৩-০৭৩১, ঢাকা মেট্রো-খ-১৫-০২২৯, ঢাকা মেট্রো-জ-১১-০৭৪৯, ঢাকা মেট্রো-জ-১১-০৫৭১, ঢাকা মেট্রো-স-১১-০৭৬০, ঢাকা মেট্রো-ম-১১-৪৬৫২, ঢাকা মেট্রো-গ-১৮-০১৯২, ঢাকা মেট্রো-স-১১-০০০৪, ঢাকা মেট্রো-স-১১-০০০৩, ঢাকা মেট্রো-ট-১৫-১৬০৭, ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৪১১৮, ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-৬৯৪৪, ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৬৪২৪, ঢাকা মেট্রো-ড-১৪-১৮৩১, ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৬৬৬৭, এছাড়াও আরো অনেক গাড়ী বিগত ০৯/০১/২০২৫ইং তারিখ টাকার বিনিময়ে ফিটনেস দিয়েছেন লাভলু শিকদার। কিন্তু গাড়ীগুলো রাস্তায় চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় সত্ত্বেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উপরোক্ত অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে গাড়ীগুলো ফিটনেস যোগ্য করে সনদ প্রদান করেন। প্রতিটি গাড়ীতে কমপক্ষে ৫০০০ থেকে ১০০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত দালালের মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে ফিটনেস ইস্যু করেছেন। সেখানে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ২০০ গাড়ী অবৈধ ভাবে ফিটনেস দেওয়া হয় বলে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জানা গিয়েছে। এই রকম প্রতিদিন লাবলু অবৈধ ও রাস্তায় চলাচলের অযোগ্য গাড়ীগুলোকে ঘুষের টাকার বিনিময়ে ফিটনেস সনদ ইস্যু করে থাকেন। টাকা না দিলে তারা কোন কোম্পানীর গাড়ী ফিটনেস সনদ দেন না। ফিটনেস সনদ না দিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করেন। লাবলু সিকদার টাঙ্গাইলে সাবেক এমপি একাব্বর ও সাবেক এমপি ছোট মনিরের সহযোগীতায় বিআরটিএ সাবেক চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারের মাধ্যমে বিআরটিএ মেট্রো-৩ টাকার বিনিময়ে পদায়ন গ্রহন করেন। তার পর শুরু হয় ঘুষ দুর্নীতি ও অবৈধ কর্মকান্ডের নিলা খেলা। লাবলু সিকদার বিরআটিএ তে চাকুরী করার সুবাদে তার এলাকার এমপি একাব্বর ও ছোট মনিরের ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে বিআরটিএ অবৈধ কাজকে টাকার বিনিময়ে বৈধ করে দিয়েছেন। তিনি এখোনো আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি ছোট মনির ও তার সহযোগীতায় নানান প্রকার অপকর্ম বিআরটিএতে করেই যাচ্ছেন। লাবলু সিকদার ঢাকা টু টাঙ্গাইল রুটে ১৫টি বাস ও ৩টি মাইক্রোবাস ও ২টি প্রাইভেট কার ক্রয় করে উক্ত রুটে ভাড়ার বিনিময়ে চলাচল করেন।
লাবলু সিকদারের অবৈধ ক্ষমতার বিষয়ে তদন্ত করলে আরো অসংখ্য তথ্য পাওয়া যাবে। লাবলু সিকদার মূলত আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়ায় বর্তমানে তিনি সরকারের বিপক্ষে গোপনে নানান প্রকার ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছেন। তাকে উত্তরা বিআরটি এ থেকে প্রত্যাহার করে তার বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা গ্রহন করা আবশ্যক। লাভলু সিকদার ও তার পরিবারের অবৈধ সম্পদের তালিকা তুলে ধরা হলোঃ
উক্ত বাড়িটি তিনি ১৯ শতাংশ জমি সহ একটি টিনসেড বাড়ী ক্রয় করেছেন ১০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে। এছাড়াও তার স্ত্রীর নামে ৫০ ভরী স্বর্ণ রয়েছে। তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ৪০ বিঘা জমি ক্রয় করেছন। তিনি আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছাত্রলীগ ক্যাডার হওয়ার কারনে তিনি তার এলাকায় সাবেক এমপির মাধ্যমে বিআরটিএ এর সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদারকে ম্যানেজ করে সমস্ত অপকর্ম করেছেন। তিনি এখনও আওয়ামীলীগ সাবেক এমপিদের অর্থ সহযোগীতা করিতেছেন বিকাশ নগদ ও রকেট এর মাধ্যমে। লাভলু সিকদার মূলত একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা তার অপকর্ম ও ঘুষ লেনদনে এবং গ্রাহক হয়রানি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের বিষয় শত শত অভিযোগ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জমা পড়েছে। অদৃশ্য শক্তির কারনে তার অবৈধ কর্মকান্ড ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিআরটিএ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছেন না। লাভলু সিকদারের পরিবারে সদস্যদের নামে কয়েকটি ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে। এছাড়াও সাবেক আওয়ামীলীগ এর এমপিদের অর্থ লাভলু সিকদার ও তার পিতা পাহালী সিকদার এবং তার মাতা নুর বানু এখনো নিয়ন্ত্রণ করিতেছেন। নূর বানু একজন গৃহিনী হওয়া সত্বেও তার ব্যাংকের একাউন্টে কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে। যা সম্পূর্ণ লাভলু সিকদার এর অবৈধ কালো টাকা। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করলে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য যে, লাভলু সিকদার এর বিষয়ে গত ১৫/০১/২০২৫ইং তারিখ মাননীয় উপদেষ্টা সড়ক জনপদ ও সেতু মন্ত্রণালয় বরাবর একটি লিখিত আকারে অভিযোগ করেন মো.
আজাদুর রহমান নামের জনৈক্য ব্যাক্তি। উক্ত অভিযোগে দালালদের মোবাইল নম্বার ও গত ০৯/০১/২০২৫ইং তারিখ এর ফিটনেস বিহীন গাড়ীর নাম্বারগুলো উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দুর্নীতির এই অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।