ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গার্মেন্টস কর্মীর নেতৃত্বে এটিএম কার্ড প্রতারণা, মাসে আয় কয়েক লাখ টাকা

রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরে ঘুরে ঘুরে সাবেক গার্মেন্টস কর্মীর নেতৃত্বে একটি চক্র প্রতারণা করে আসছে। চক্রের টার্গেট বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথে আসা গ্রাহকরা। কৌশলে এ সকল গ্রাহকের কার্ড বদল ও পিন নাম্বার হাতিয়ে টাকা তুলে নিয়ে আসছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শাহবাগ থানায় এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)’র
সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

ডিবি বলছে, এই চক্রটি এটিএম বুথের কার্ড বদল করা চক্রের একমাত্র চক্র।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- চক্রের মূলহোতা শহিদুল ইসলামহে শহিদ (৩৩) ও তার সহযোগী মামুন মাতব্বর।

এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্ড বদল চক্রের সদস্যকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাইবার ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুনায়েদ আলম সরকার।

এডিসি জুনায়েদ বলেন, রাজধানীর শাহবাগ থানায় আতাউর রহমান নামের এক ভুক্তভোগী গত ১৫ই অক্টোবর অভিযোগ করেন যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার স্ত্রীর টিউমার অপারেশনের জন্য আসেন। গত ১৪ অক্টোবর দুপুর সোয়া ২টার দিকে স্ত্রীর চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যাংকের পাশে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে যান। এটিএম বুথে গিয়ে দেখেন ভেতরে আগে থেকে এক ব্যক্তি অবস্থান করছেন। ভুক্তভোগী টাকা তোলার চেষ্টা করলেও মেশিনে কার্ড না ঢোকায় সাহায্যের কথা বলে কৌশলে এটিএম কার্ডটি সরিয়ে নিজের পকেট থেকে আরেকটি কার্ড দেয়। পরিবর্তন করে গ্রেফতারকৃত আসামীর নিকট রক্ষিত একই রকম অন্য একটি কার্ড ভুক্তভোগীকে দিয়ে দ্রুত এটিএম বুথ ত্যাগ করে। ভুক্তভোগীকে দেওয়া এটিএম কার্ডটি এটিএম মেশিনে প্রবেশ করালে এটিএম মেশিনে কার্ডটি আটকে যায়। নিজে টাকা তুলতে ব্যর্থ হলেও মোবাইল ফোনে আসা বার্তায় দেখেন তার কার্ড দিয়ে পাঁচবারে এক লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে যোগাযোগ করার পর সিসি ফুটেজ দেখে আসামী সনাক্ত করেন এবং ব্যাংকের সহায়তায় নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করে থানায় অভিযোগ দেন।

এই ঘটনার তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সন্ধান পায় অভিনব কৌশলে এটিএম কার্ড বদল করা একটি চক্রের। পরবর্তীতে রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার শহিদ ও তার সহযোগী গোয়েন্দা পুলিশকে প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে জানিয়েছে, এই চক্রটি ২০১৫ সাল থেকে কার্ড বদল করে প্রতারণা করে আসছিলো। ডাচবাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা তুলতে আসা বয়স্ক মহিলা ও বৃদ্ধদের টার্গেট করত। পাশাপাশি যে সকল বুথে নিরাপত্তা কর্মী নেই, বা থাকলেও অন্যমনস্ক তাদের টার্গেট করত।

যে ভাবে কার্ড ও পিন হাতিয়ে নিত; প্রতারণার কৌশল হিসেবে টার্গেট নির্ধারণ করার পর শহিদ এটিএম বুথের ভেতরে টাকা উত্তোলনের বাহানা করে ভেতরে অবস্থান নেয়। বুথের বাইরে মামুন অবস্থান করে নজর রাখে। দুটি ভিন্ন রংয়ের এটিএম কার্ড সঙ্গে থাকে শহিদের পকেটে। রাখে। ডাচবাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা তুলতে আসা টার্গেটকৃত মহিলা ও বৃদ্ধ ব্যক্তিরা টাকা তুলিতে এটিএম বুথে প্রবেশ করার আগমূহুর্তে শহিদ এটিএম মেশিনের বিভিন্ন বাটন চেপে এটিএম বুথের মোবাইল ব্যাংকিং এর টাকা তোলার অপসন চালু করে রাখে। ফলে গ্রাহক যখন বুথে ঢুকে কার্ড প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে তখন মেশিন কার্ড গ্রহণ করে না। পাশাপাশি কয়েক সেকেন্ডের জন্য কার্ড দিয়ে টাকা তোলা বন্ধ থাকে। সেই সুযোগে সাহায্য করার অযুহাতে শহিদ এগিয়ে এসে কার্ড প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী কাছ থেকে কার্ড চেয়ে নেয়। তখন গ্রাহকরা সরল বিশ্বাসে তাকে কার্ড দিলে গ্রাহকের কার্ডের সঙ্গে মিল রেখে শহিদ পকেটে থাকা এটিএম কার্ড কৌশলে মুহুর্তেই বদল করে ফেলে। বদলে ফেলা অন্য এটিএম কার্ড মেশিনে প্রবেশ করিয়ে পিন চাপতে বলে পেছন থেকে দেখে নেয়। এরপর দ্রুত বুথ থেকে বের হয়ে অন্য বুথে গিয়ে টাকা তুলে নেয়।

শহিদুল গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছে, ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করত্ম পরবর্তীতে নিজেই এই প্রতারণার কৌশল বের করে। এরপর গার্মেন্টস ছেড়ে দিয়ে এটিএম কার্ড প্রতারণা শুরু করে৷ মামুন তার এক মাত্র সহযোগী। ঢাকায় তার কোনো বাসা নেই। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিয়ে প্রতারণা করত। প্রতি মাসে ৫/৬টি প্রতারণা করত। টাকা পেলে গোপালগঞ্জের নিজ বাড়িতে চলে যেতো। আয়ের টাকা দিয়ে মাদক সেবন ও পরিবারের খরচ বহন কর। গ্রেফতার শহিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ৪ টি মামলা রয়েছে। একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করার তথ্য পাওয়া গেছে। এ দিকে শহিদের সহযোগী মামুন ছিলো চা দোকানী। দুজনে মিলে ঘুরে ঘুরে প্রতারণা করে আসছিল।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ

স্বত্ব © ২০২৩ সকালের খবর ২৪