

সকালের খবর ২৪
গত ২ জুলাই ২০২১ করোনা মহামারীতে কেড়ে নিয়েছিল আমার আব্বার প্রাণ।
এই দিন আমার জীবনের সব থেকে কষ্টের ও স্মরণীয় দিন। আমার আব্বাকে হারানো দিন।
আজ এই দিনে আমার আব্বার শেষ দিন ছিলো। ১৯ শে জুন ২০২১ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনা ইউনিটে আমার আব্বাকে ভর্তি করি, ভর্তি করার পর হাসপাতালে ডাক্তার নেই, অক্সিজেন নেই,ওষুধ নেই, সেবা নেই ১৩ দিন অতিবাহিত হয়,আষাঢ় মাস ১ জুলাই বৃহস্পতিবার অঝোরে বৃষ্টি বৃষ্টি হচ্ছিল,সারাদিনও ডাক্তার নাই, বিকালে ডাক্তার এসে আমার আব্বাকে একটি ইনজেকশন দিল, সঙ্গে সঙ্গে আমার আব্বা বলল আব্বা আমি সহ্য করতে পারছি না আমার বুক জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে, সন্ধ্যা আসলো,রাত হলো, হাসপাতালে নার্সদের ডাকাডাকি করলেও আসেনি আমার আব্বার ট্রিটমেন্টের করতে। নার্স এসে ফাইল নিয়ে ডাক্তারের কাছে দিয়েছে জানতে পারলাম, ডাক্তারের কাছে ফাইল চাইলাম কিন্তু সে আমাকে ফাইল দিলোনা বললো ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না,অনেক খোঁজাখুঁজি করেছিলাম একবার আব্বার কাছে একবার ডাক্তারের কাছে, রাত ১.৫৪ মিনিট ডাক্তারের রুমের ভিতর ঢুকে গেলাম তার রুমের ভিতর টেবিলের নিচে ফাইলটি রাখা, কেন রেখেছে জানিনা আমি ফাইলটা নিয়ে আসলাম বললাম আমার আব্বার রাত্রের ওষুধ খাওয়াতে পারিনি আব্বাকে ওষুধ খাওয়াতে হবে, সে কোন পদক্ষেপ নিল না । আমার আব্বা বুকের যন্ত্রণায় কাতড়ানো শেষ করে নীরবে নিশ্বাস নিচ্ছে তখন ভোর পাঁচটা আমি মনে করছি আমার আব্বা ভালো হয়ে গেছে, আমার আব্বার মুখের দিকে আমি তাকিয়ে আব্বাকে সেবা দিতে লাগলাম। এই বুঝি আমার আব্বা ভালো হয়ে যাবে,ফজরের আজান দিচ্ছে, তখন আমার পাশে কেহ নেই আমি একা, আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম , পাশের বেডের একটি লোক এসে আমাকে পিঠে থাবা দিয়ে বলল শক্ত হন মনকে শক্ত করুন, তখন বুঝলাম আমার আব্বা থাকবে না, সকাল ছয়টা ২ জুলাই শুক্রবার আমার আব্বা আস্তে আস্তে চোখ নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল কালো মুখ সাদা হয়ে গেল হাসি দিল। তখন দেখলাম আমার আব্বার নাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। তাৎক্ষণিক ডাক্তার নার্সদের ডাকাডাকি করেও কেহই আসলো না পরবর্তীতে একজন নার্স এসে ফাইলটি নিয়ে আটকে দিল আমাকে ফাইল দিল না। মামা, চাচা ভাইদের সহযোগিতায় আব্বার লাশ বাইরে বের করলাম। খুলনার অনেক মিডিয়া সামনে এসে দাঁড়ালো আমাকে জিজ্ঞেস করল আপনার বাবার কি করোনা হয়েছে, আমি বললাম আমি জানিনা, আমাকে ট্রিটমেন্টের ফাইল দেওয়া হয়নি আমার আব্বা এই হাসপাতলে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। এলাকার আত্মীয় স্বজনদের কবর খুঁড়তে বললাম কবর খুঁড়তে রাজি হলেও গোসল করানো লোক পেলাম না, খুলনা ফুলবাড়ীগেট থেকে তিনজন লোককে নিয়ে আসলাম। আমার আব্বাকে লাশ অ্যাম্বুলেন্স যোগে বাড়ি নিয়ে আসলাম। জানাজা শেষে দাফন করলাম। আজ চারটি বছর গত হয়ে গেল। এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আমার আব্বার চলে যাওয়ার দিন। বাবা হারানো কত কষ্ট কত বেদনা আজ টের পাচ্ছি।
সবাই আমার আব্বার জন্য দোয়া করবেন।