

মোঃ নূরবক্ত মিঞা, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে লাউ চাষ করে দ্বিগুণ লাভ সম্ভাবনায় খুশি কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম এবং সঠিক পরিচর্যায় লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সুস্বাদু লাউ চাষে ভাগ্য ফিরেছে কৃষকদের। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি পাওয়ায় খুশি এখনকার চাষিরা। খরচের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় লাউ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস জানানঃ
এবারে রবি শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৯০ হেক্টর। এর মধ্যে লাউ চাষও রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে লাউ চাষিদের বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই ও পোকামাকড় নিধন সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া অব্যহত রয়েছে বলে উপজেলা কৃষি সূত্র জানান।
অল্প খরচে অধিক লাভে স্বাবলম্বী কৃষকঃ
কৃষকেরা জানান, লাউ চাষে অন্যান্য রবিশস্য উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম। বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করে লাউ চাষ করা হয়। একবার চারা রোপণ করলে নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় ৪/৫ মাস ফলন পাওয়া যায়। এবারে লাউয়ের ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় অনেক টাকা আয় করছেন লাউ চাষিরা। অল্প খরচে বেশি আয় করা যায় বলে জানান লাউ চাষীরা।
সরেজমিন লাউ ক্ষেতের চিত্রঃ
সরেজমিন লাউ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, মাচায় থাকা সবুজ লাউয়ের প্রতিটি ডগায় সাদা ফুলের সম্ভার। মাচার নিচে ঝুলছে লাউ আর লাউ। পোকা ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে লাউক্ষেতের সুরক্ষায় চারপাশে দেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা নেট জালের বেড়া। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সুস্বাদু এ লাউ চাষে ভাগ্য বদলের চেষ্টায় সফল হয়েছেন লাউ চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাছাড়া লাউয়ের বীজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৃষিসামগ্রী সহজলভ্য হওয়ায় এসব সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা লাউ চাষ করছেন। ফলে দ্বিগুণ লাভ করছেন কৃষকেরা। এক সময় যে জমিতে শুধু ধানই উৎপাদন হতো তাতে যা আয় হত তার থেকে সেই জমিতে বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ বার লাউ সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করছেন। লাউ চাষিরা জানান, লাউ মাত্র ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে হয়ে থাকে। তারপর এই জমিতে করলা, সিম ও পটলের চাষ হবে। যা বোরো ও আমন ধানের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ করা সম্ভব।
বিভিন্ন এলাকার লাউচাষির সাফল্যের কথাঃ
উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন দলদলিয়া পাতিলাপুর মিয়াপাড়া গ্রামের লাউচাষি সওকত আলী জানান, এবারে ১০ শতক জমিতে লাউয়ের চাষ করেছেন। লাউ বাজারজাত করা পর্যন্ত খরচ হয়েছে মাত্র ৬ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত ছোট বড় লাউ শতাধিক বেঁচেছেন। বিভিন্ন দাম ভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এখনও মাচায় অনেক লাউ আছে। এগুলো বাজারে বিক্রি করে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার আয় হবে বলে তারা আশা করছেন।
লাউ চাষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি লাভ হওয়ায় এলাকার অনেক কৃষক লাউ চাষে ঝুঁকছেন বলে জানান গেছে।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লাউ চাষিদের মধ্যে বকিয়ত মিয়া, তারাজুল ইসলাম, নুরুন্নবী মিয়া ও রুহুল আমীন সহ আরও অনেক লাউচাষি জানান, অল্প খরচে অল্প সময়ে লাউ চাষে দ্বিগুণ লাভ করা যায়। যার কারণে লাউ চাষে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে অনেক কৃষকের। তারা আরও জানান, করলার চাষ করা মাচায় লাউয়ের চাষ করা হয়। লাউ চাষের জন্য নতুন করে মাচার প্রয়োজন হয় না। যার কারণে দ্বিগুণ লাভ করা সম্ভব হয়। এছাড়া এবারে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় অনেক লাভবান হয়েছি বলে জানান লাউ চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মন্তব্যঃ
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, লাউ চাষে অল্প সময়ে অল্প খরচে দ্বিগুণ লাভ করা যায়। লাউ চাষে দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় উপজেলায় লাউ চাষের প্রতি ঝুঁকছেন চাষিরা। এবারে আবহাওয়া অনুকুল থাকায় লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকায় লাউ চাষিরা অনেক লাভবান হয়েছেন বলে জানান তিনি।