ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

উপকূলীয় অঞ্চলে লবণ পানির আগ্রাসন বন্ধে সংসদে দাবি: এমপি রশিদুজ্জামানের

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব গোটা দেশে পড়লেও দক্ষিণ উপকুলীয় সুন্দরবন অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। একাধিক কারণে এখানকার মানুষের জীবন জীবিকার মারাত্মক হুমকিস্বরূপ হয়ে পড়েছে। প্রকৃতির ঘন ঘন দূর্যোগে ধ্বংস মোকাবেলার সক্ষমতা হ্রাস, তদুপরি ফারাক্কার উজানে ঠেলে দেয়া লবণাক্ত পানি উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার সৃষ্টি কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি। এই সুবাদে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙে কৃষি জমিতে লবণ পানি প্রবেশ করিয়ে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী লোনা পানির ঘের করে বাগদা চিংড়ির চাষ করছেন।এটি খুবই উদ্বেগের বিষয়।লবণ পানির আগ্রাসন থেকে বাঁচতে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে লবণ পানি উঠিয়ে চিংড়ি চাষ বন্ধ ও মিঠা পানিতে পরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষ সম্পর্কে জাতীয় সংসদে আইন করার জোরালো দাবি জানান খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রশীদুজ্জামান। জাতীয় সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য কালে কয়রা- পাইকগাছা লবণপানি মুক্ত মৎস্য চাষ ও টেকসই ভেড়িবাঁধের জোরালো দাবি উত্থাপন করেন
তিনি।প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমি কখনো চিংড়ি ঘেরের বিরুদ্ধে নই, পুষ্টি চাহিদা মেটাতে মৎস্য বা চিংড়ি আমাদের প্রয়োজন, কিন্তু সেটা কৃষি ফসল ও পরিবেশের ক্ষতি করে নয়? লবণ পানির জায়গা নদী-সাগরে থাকুক। তবে জনবসতি ও ফসলি এলাকায় নয়। ‘আমার নির্বাচনী এলাকা কয়রা উপজেলার পর আর কোনো গ্রাম নেই, আছে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর। একসময় ওই এলাকা নদীর জোয়ারে ডুবে যেত, আবার ভাটায় জেগে উঠত। কোনো ফসল হতো না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ১৯৭২ সালে ওই এলাকায় ভেড়িবাঁধ নির্মাণ করে অফসলি এলাকাকে ফসলি এলাকায় পরিণত করেছিলেন। কিন্তু আশির দশকে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী সেই বাঁধগুলো কেটে লোকালয়ে নদীর লোনা পানি তুলে অতি লাভের আশায় চিংড়ি চাষ শুরু করে। সেই থেকে চিংড়ি চাষ উপকূলের মানুষের গলায় ফাঁস হয়ে আছে। তিনি লবণ পানি বন্ধে সুনির্দিষ্ট আইন তৈরীর আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার এক বৃদ্ধ মহিলা আমাকে বলেছেন, তুমি সংসদে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে আমার কথা কি বলতে পারবে “সতীনের সঙ্গে সংসার করা যায় কিন্তু লবণপানির সঙ্গে বসবাস করা যায় না।” যখন বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ শুরু হয়ে যায়, তখন উপকূলের মানুষের কোনো উপায় থাকে না। এসময় তিনি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য দাবি জানান একটি টেকসই বাঁধ ও অপরটি সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার। সংসদ সদস্য রশীদুজ্জামান বলেন, আমার এলাকার নদীর বাঁধের নিচ দিয়ে চিংড়ি চাষিদের হাজার হাজার পাইপ ঢোকানো আছে। এমনি করে যদি বাঁধ ছিদ্র করা পাইপে প্রতিনিয়ত লোনা পানি যাওয়া-আসা করতে থাকে তবে সেই বাঁধ মজবুত হবে কিভাবে। ভঙ্গুর বাঁধগুলো যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আবারও উপকূলের মানুষের সংসার
ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা জনগুরুত্বপূর্ণ গণমুখী বিষয় জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে উত্থাপন করায় এমপি রশীদুজ্জামানের বক্তব্য মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। কয়রা- পাইকগাছার বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হওয়ায় বিভিন্ন মহলের মানুষ এমপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

জানা যায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি অবৈধভাবে লবণ পানি উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, নির্বাহী প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ড, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে। বর্তমানে স্থানীয় সংসদ সদস্য সংসদে বক্তব্য রাখার পরপরই লবণ পানি উত্তোলন বন্ধের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ

স্বত্ব © ২০২৩ সকালের খবর ২৪