সাহাবী ইকরামা ইবন আবু জাহলের শাহাদাত!

ইসলামের মখর শত্রু ইকরামা ইবন আবু জাহল ইসলামের সশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। ইসলাম গ্রহণের আগে একদিন যে কট্টর শত্রু ছিল, ইসলাম গ্রহণের পর সে হয়ে উঠল একজন জানবাজ মুজাহিদ। তাঁর প্রাণে জ্বলে উঠল ঈমানের আগুন-শহীদের রক্তবীজ সঞ্চারিত হলো তাঁর প্রাণমূলে। অন্ধকার থেকে আলোয় এসেছেন তিনি। আলেঅর স্পর্শ তাঁকে পাগল করে তুলেছে। সংগ্রামের প্রাণশক্তি তাঁর প্রাণ জগত থেকে উপছে উঠছে। কিন্তু এ প্রাণশক্তি তিনি রাখবেন কোথায়? শীঘ্রই সুযোগ এল। এল যুদ্ধের ডাক। ইকরা সাড়া দিলেন সে ডাকে। যুদ্ধে শামিল হলেন ইকরামা ইবন আবু জাহল।

ভীষণ যুদ্ধ চলছে ইয়ারমুকে। সত্যের জন্য, ন্যায়ের জন্য প্রাণের আবেগে ইকরামা প্রাণপণ সংগ্রামে নিরত। বাতিলের রক্তে স্নান করে লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে- শহীদের রক্ত শয্যায়। পাশেই কিচু দূরে ছিলেন মহান সেনানায়ক খালিদ ইবন ওয়ালিদ। তিনি দেখতে পেলেন ভূমি শয্যায় শায়িত ইকরামা ইবন আবু জাহলকে। ঘোড়ার মুখ ফিরিয়ে নিলেন তিনি। ইকরামার কাছে এসে তিনি ঘোড়া থেকে দ্রুত নামলেন। ইকরামার জীবনী শক্তি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে আসছিল। খালিদ তাঁর মাথা তুলে নিলেন কোলেণ। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে ইকরামা বললেন, “খলীফা উমার আমার শাহাদাত লাভেল শক্তিতে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। আজ আমার আনন্দ যে, আমার জীবন্ত বিশ্বাসের প্রমাণস্বরূপ আমি শহীদ হতে চলেছি।” শাহাদাতে আকুল পিয়াসা ইকরামাকে পাগল করে তুলেছিল। সেই পিয়াসা নিয়ে ইকরামা শাহাদাত বরণ করলেন।
মোঃ আব্বাস আলী। ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি ও
সহকারী অধ্যাপক (ব্যবস্থাপনা বিভাগ)
জি, টি ডিগ্রী কলেজ। কোটচাঁদপুর। ঝিনাইদহ