

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানী মিরপুর ১৩ নম্বরে অবস্থিত বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো ০১। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে দ্বায়িত্বে আছেন শেখ মো. ইমরান।
তবে সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে বিআরটিএ অফিসের অবৈধ উপার্জনের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এই সহকারী পরিচালক শেখ মো. ইমরার, ও তার স্ত্রী সাজিয়া ইয়াছমিন।
গেল বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই ) তাদের এসব অবৈধ উপার্জনের বিষয়ের তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন সেগুনবাগিচা ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. মেহেরুল নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগপত্রে মো. মেহেরুল বলেন,শেখ মো. ইমরান,সহকারী পরিচালক, বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-০১, মিরপুর-১৩, ঢাকায় বর্তমানে কর্মরত আছেন।
তিনি বলেন, শেখ ইমরান বিআরটিএ অফিসে প্রথম সহকারী মটরযান পরিদর্শক/মেকানিক্যাল এসিসটেন্ট পদে যোগদান করে ঘুষ দুর্নীতি ও বিআরটিএ এর দালাল নিয়োগ করে প্রতি নিয়ত লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি নিজেই ও তার স্ত্রী পরিবারের সন্তানদের কোটি কোটি টাকা মালিক বানিয়েছেন। তার বড় ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়া লেখা করেন বিষয়টি কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। শেখ ইমরান ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের বিষয়ে নিম্নে তুলে ধরা হলো। (১) গ্রীন গার্ডেন, ফ্ল্যাট নং-এ/২, শান্তি নগর, বাজার গলি, পল্টন, ঢাকা-১০০০। উক্ত বাসায় শেখ ইমরান ও তার স্ত্রীর দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। (২) শেখ ইমরানের ৩০/০৬/২০২১ সালের আর্থিক বিবরণী থেকে জানা যায় যে অকৃষি সম্পত্তি মূল্য দেখিয়েছেন ২২৬১৭৬০/- টাকা। আর অন্য দুটির সম্পত্তির মূল্য তিনি প্রদর্শন করেন নি। (৩) তিনি স্বর্ন অলংকার ক্রয় করেছন ১২৫০০০/- টাকা দিয়ে, কিন্তু স্বর্ণের পরিমান উল্লেখ্য করেন নি। (৪) আসবাব পত্র মূল্য দেখিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। তিনি নীট সম্পদ প্রদর্শন করেছেন ৮৫০৫৪০৪/- টাকা। কিন্তু কেরানীগঞ্জে ৪টি টিনসেড ঘর ভাড়া দিয়ে বছরে ১৯২০০০/- টাকা আয় করেন।
তার স্ত্রী সাজিয়া ইয়াছমিন একজন গৃহিনী হওয়া সত্বেও তার অবৈধ সম্পদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তার নিম্নে তুলে ধরা হলো: (১) ফ্ল্যাট নং-এ/২, শান্তি নগর, বাজার গলি, পল্টন, ঢাকা-১০০০ একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। তার স্ত্রীর ৩০/০৬/২০২৩ইং তারিখের আর্থিক বিবরণী সূত্রে জানা যায় যে (১) অকৃষি সম্পত্তি ৬১৪৯০০০/- টাকা। (২) অপরটি ২৮ লক্ষ টাকার সম্পদ ক্রয় করেছেন।
কিন্তু তিনি বাকি সম্পত্তি গুলোর মূল্য তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করেন নি। সাজিয়া ইয়াছমিন ৩০/০৬/২০২৩ইং বিবরণী সূত্রে জানা যায় যে তার নামে একটি গাড়ী রয়েছে। ঢাকা মেট্রো-গ-২৩-৬৫০৭, কিন্তু তিনি পরবর্তীতে গাড়ীটি অন্যের নিকট বিক্রি করেছেন। স্বর্ণ রয়েছে ৪০ ভরী যার মূল্য তিনি প্রদশন করেন নি। আসবাব পত্র ক্রয় মূল্য দেখিয়েছেন ৬০ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রিক ক্রয় দেখিয়েছে ৫০ হাজর টাকা। তিনি নগদ ও ব্যাংকে ৪১ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা। তার কোন দায় নেই। তিনি নীট সম্পত্তি প্রদর্শন করেনছেন ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা। ইমরান ও তার স্ত্রী যে পরিমান সম্পদ আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শন করেছেন তার কয়েক গুণ বেশি সম্পত্তি রয়েছে। যা তারা সঠিক ভাবে সরকারকে প্রদর্শন করেন নি। সাজিয়া ইয়াছমিন কেরানীগঞ্জে বাড়ী ভাড়া পান বছরে ৫লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। তাদের বিভিন্ন ব্যাংকে আরো কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে, এবং দেশের আনাছে কানাছে এবং বিদেশে তাদের কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করলে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানান তিনি।